আইপিএলের প্রথম মরসুমে শেন ওয়ার্নের নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। তার পর আর ট্রফি জিততে পারেনি তারা। টানা ১৭ বছরের ট্রফি খরা এ বার কাটাতে চায় বৈভব সূর্যবংশী। এ বার আইপিএলে ১৫ বছরের ব্যাটারের প্রধান লক্ষ্য রাজস্থানকে চ্যাম্পিয়ন করা। খেলতে চায় ব্রায়ান লারা এবং যুবরাজ সিংহের মতো। তবে কি তার সেই মারকাটারি ব্যাটিং আর দেখা যাবে না?
গত বছর প্রথম আইপিএল খেলেছে বৈভব। ৭টি ম্যাচে ২০৬.৫৫ স্ট্রাইক রেটে করেছিল ২৫২ রান। আইপিএলে শতরান করে আলোচনায় উঠে এসেছিল ১৪ বছরের ক্রিকেটার। এ বার আইপিএলে বৈভবের দ্বিতীয় বছর। ভাল ফর্মে রয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, এমার্জিং এশিয়া কাপে ভারতের জয়ের অন্যতম নায়ক আইপিএলেও আত্মবিশ্বাসী। প্রতিযোগিতার সম্প্রচারকারী সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৈভব বলেছে, ‘‘আমি ব্রায়ান লারা এবং যুবরাজ সিংহের খেলা দেখেছি। দু’জনেই একার হাতে ম্যাচ জেতাতেন। বহু ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছেড়েছেন দু’জনেই। তাঁরা খেলাটা এমন জায়গায় নিয়ে চলে যেতেন, যেখান থেকে প্রতিপক্ষের ফিরে আসার সুযোগ থাকত না। এই বিষয়টাই আমায় সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করত। আমি ওঁদের মতো খেলতে চাই।’’
আত্মবিশ্বাসী বৈভব আরও বলেছে, ‘‘ঘরোয়া ক্রিকেটে বিহারের হয়ে ভাল রান পেয়েছি। চ্যালেঞ্জার্স ট্রফি খেলেছি। বিনু মাঁকড় ট্রফি খেলেছি। তারও আগে ২০২৩ সালে একটা চার দলের প্রতিযোগিতায় খেলেছিলাম। দুটো দল ছিল ভারতের। বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ড থেকে একটা করে দল ছিল। সেটাই ছিল আমার প্রথম বড় মাপের প্রতিযোগিতা। তার পর ক্রমশ উন্নতি করার চেষ্টা করেছি। বিহারের হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলেছি। তখন থেকেই রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। আমার প্রায় সব খেলা দেখতেন রাজস্থানের প্রতিনিধিরা। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ম্যাচগুলোতেও আমায় দেখতেন তাঁরা। বলতে পারেন, প্রথম থেকেই রাজস্থান কর্তৃপক্ষ আমার পাশে রয়েছেন।’’
বিজয় হজারে ট্রফিতে ৮৪ বলে ১৯০ রানের ইনিংস, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে অপরাজিত ১০৮ রানের ইনিংস আত্মবিশ্বাসী করেছে বৈভবকে। ২০২৫ সালে যুব এক দিনের ম্যাচেও সফল ১৫ বছরের ব্যাটার। ৫৭.৫০ গড়ে করেছে ৬৯০ রান। স্ট্রাইক রেট ১৬০-এর বেশি।
রাজস্থান নিলাম থেকে কেনার পর কী মনে হয়েছিল? বৈভব বলেছে, ‘‘খেলার সুযোগ পেলে দলকে একটা ভাল শুরু দেওয়াই ছিল আমার প্রথম লক্ষ্য। পাওয়ার প্লে-র সুবিধা কাজে লাগিয়ে খেলতে চেয়েছিলাম। ভাল ভাবে শুরু করতে পারলে, বড় ইনিংস খেলার লক্ষ্য থাকত। উইকেট ছুড়ে দিতে চাইতাম না। আগ্রাসী ব্যাটিং অনেক সময় ম্যাচে রং বদলে দিতে পারে। কারণ ২০০ বা তার বেশি রান তাড়া করা কিন্তু কঠিন। যে কোনও দলের জন্যই কঠিন। দ্রুত কিছু রান তুলে নিতে পারলে পরিস্থিতি সহজ হয় কিছুটা। সেটাই চেষ্টা করতাম।’’ এর পরই বৈভব বলেছে, ‘‘এ বার আমার লক্ষ্য অন্য। দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে চাই। আরও ভাল পারফর্ম করে দলকে সাহায্য করতে চাই। আমরা ট্রফি জিততে পারলে আমার এবং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হবে। যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।’’
বৈভবের ধারাবাহিক উন্নতিতে খুশি তার প্রথম কোচ মণীশ ওঝাও। তিনি বলেছেন, ‘‘২০১৮ সালে বাবার সঙ্গে প্রথম আমার কাছে এসেছিল বৈভব। ওর প্রতিভার আন্দাজ তখনই পেয়েছিলাম। ক্রিকেট ছাড়া কিছু বুঝত না। প্রথম থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে চাইত। বোলারদের আক্রমণ করতে চাইত। ৪০০ থেকে ৫০০ বল খেলানোর পর একটু বিরতি দিতাম। এ ভাবে দু’-তিন বার ব্যাটিং অনুশীলন করাতাম।’’ তিনি আরও বলেছেন ২০২২ সাল থেকে ওকে চার দিনের ম্যাচের জন্য তৈরি করতে শুরু করেছিলাম। ৪০ ওভার করে ব্যাট করাতাম। প্রথম ২০ ওভার নতুন বলে জোরে বোলারদের বল খেলত। পরের ২০ ওভার পুরনো বলে স্পিনারদের সামলাত। তখনও তুলে তুলে মারত। প্রায় সব বলেই রান করার চেষ্টা করত। বুঝিয়ে ছিলাম, লাল বলের ক্রিকেটে সব বল মারা যায় না। খুচরো রান নিয়ে খেলতে হয়। ক্রমশ উন্নতি করেছে। অনূর্ধ্ব-১৬ এবং ১৯ পর্যায়ে সাফল্য পেয়েছে। মারতে গিয়ে আউট হয়েছে। বকাবকি করেছি। ও এক দিন আমায় বলল, ‘স্যর আমি যদি একটা বলে ছয় মারতে পারি, তা হলে কেন খুচরো রান নেব?’ তার পর আর ওকে ধরে খেলার কথা বলতাম না। আগ্রাসী ব্যাটার হিসাবেই তৈরি করেছি।’’
আরও পড়ুন:
কী ভাবে তৈরি করলেন বৈভবকে? মণীশ বলেছেন, ‘‘ওকে ছোট ছোট লক্ষ্য দিতাম। যেমন ৩ বলে ১৮ রান করতে হবে বা ৪ বলে ২৪ রান করতে হবে। এক ওভারে ২৪ রান করার লক্ষ্যও দিয়েছি। সেটা ৫ বলেই করে দিয়েছিল।’’ মণীশও ছাত্রকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। এ বারের আইপিএল বৈভবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।