Advertisement
E-Paper

আইপিএলে বুধবার বোলারদের দাপট, অসহায় দেখাল ব্যাটারদের! লখনউকে ৪০ রানে হারিয়ে জয়ে ফিরল রাজস্থান

লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামের ২২ গজে দাপট দেখালেন বোলারেরা। দু’দলের ব্যাটারেরাই সমস্যায় পড়লেন। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ সাধারণত ব্যাটারদের হাতেই থাকে। বুধবার অন্য অভিজ্ঞতা হল ক্রিকেটপ্রেমীদের।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:১৫
picture of cricket

জয়ের উচ্ছ্বাস রাজস্থান রয়্যালসের ক্রিকেটারদের। ছবি: পিটিআই।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাধারণত ব্যাটারদের দাপট দেখা যায়। আইপিএল হলে তো কথাই নেই। সে দিক থেকে লখনউ সুপার জায়ান্টস-রাজস্থান রয়্যালস ম্যাচ ব্যতিক্রম। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখালেন বোলারেরা। সাবধানে ব্যাট করলেন ব্যাটারেরা। এমন উলটপুরানের শুরুটা হয় মহম্মদ শামির হাত ধরে। পর পর ২ বলে যশস্বী জয়সওয়াল এবং ধ্রুব জুরেলকে আউট করে দেন বাংলার জোরে বোলার।

বুধবারের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে রাজস্থান করে ৬ উইকেটে ১৫৯। জবাবে ঘরের মাঠে ঋষভ পন্থের লখনউয়ের ইনিংস শেষ হল ১৯ ওভারে ১১৯ রানে। ৪০ রানে জয় পেলেন রিয়ান পরাগেরা। দু’ম্যাচ পর আইপিএলে জয় ফিরল রাজস্থান।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পন্থ। ইনিংসের প্রথম ১৬ বলে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৩২ রান তুলে ফেলে রাজস্থান। তারাই ৪ ওভারের শেষে ৩ উইকেটে ৩২। তৃতীয় ওভারের শেষ ২ বলে যশস্বী এবং জুরেলকে আউট করে ধাক্কা দেন শামি। চাপে পড়ে যাওয়া রাজস্থানকে পরের ওভারে আরও কোণঠাসা করে দেন মহসিন খান। আউট করেন বৈভব সূর্যবংশীকে। ওই ওভারে কোনও রানও দেননি মহসিন। যশস্বী (২২), জুরেল (০) এবং বৈভবেরা (৮) আউট হন ৮ বলের মধ্যে। রাজস্থানের ব্যাটিং শক্তির অর্ধেক ওখানেই শেষ!

Advertisement

এর পর দলের ইনিংস মেরামতে হাত লাগান অধিনায়ক রিয়ান এবং শিমরন হেটমেয়ার। চোট সারিয়ে ৩৫৩ দিন পর ময়াঙ্ক যাদবকে পেয়েও রান তোলার গতি তেমন বাড়াতে পারেননি তাঁরা। প্রথম ওভারে ১৩ রান দেওয়া প্রিন্স যাদবও ফিরে এসে ভাল বল করলেন। তাঁকে উইকেট দেন পরাগ (২০)। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চার-ছক্কা দেখতে মাঠে আসা ক্রিকেটপ্রেমীরা পর পর আউট দেখলেন! বোলারদের দাপট দেখতে হল। ভরসা দিতে পারেননি হেটমেয়ারও (২২)। মহসিনের বলে তিনি আউট হওয়ার পর রবীন্দ্র জাডেজা এবং ডনোভান ফেরেরা ঝুঁকি নেননি। বল বুঝে খেলে দলের ইনিংস টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। খুচরো রান নিয়ে স্কোর বোর্ড সচল রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা। ফেরেরাও (২০) ভাল কিছু করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত জাডেজার সঙ্গে ২২ গজে ছিলেন ইমপ্যাক্ট সাব শুভমন দুবে। জাডেজা ২৯ বলে ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকলেন। তাঁর ব্যাট থেকে এল ২টি চার এবং ১টি ছয়। শুভম করলেন ১১ বলে ১৯। ৩টি চার মারেন তিনি। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৯ রান তুলে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছোয় রাজস্থান।

শামির ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ২ উইকেট। বেশ ভাল বল করলেন। এর পরও বাংলার জোরে বোলার জাতীয় দলের সুযোগ না পেলে বিস্মিত হতে হবে। নজর কাড়েন মহসিনও। ১৭ রানে ২ উইকেট তাঁর। লখনউয়ের অন্য বোলারেরাও রাশ আলগা হতে দেননি। ২৯ রান দিয়ে ২ উইকেট প্রিন্স যাদবের। উইকেট না পেলেও কৃপণ বোলিং দিগ্বেশ রাঠীর। ২৬ রান দেন ৪ ওভারে। কিছুটা হতাশ করলেন শুধু চোট সারিয়ে ফেরা ময়ঙ্ক। ৫৬ রান দিয়েও উইকেট পেলেন না।

জয়ের জন্য ১৬০ রানে লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁট খায় লখনউ। পর পর আউট হয়ে যান আয়ুষ বাদোনি (০), পন্থ (০) এবং এডেন মার্করাম (০)। ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে শুরু করে লখনউয়ের ইনিংস। ওপেনার মিচেল মার্শ এবং নিকোলাস পুরান দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন। চাপের মুখে মার্শ ২২ গজের এক দিক আগলে রাখলেও পুরানকে (২৫ বলে ২২) আউট করে দেন জাডেজা। এর পর মার্শের সঙ্গে যোগ দেন ইমপ্যাক্ট সাব হিম্মত সিংহ। তিনিও দ্রুত রান তুলতে পারেননি একানা স্টেডিয়ামের ২২ গজে।

মার্শ ৪১ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়ে যাওয়ার পর লখনউয়ের জয়ের আশা একরকম শেষ হয়ে যায়। ৬টি চার এবং ২টি ছয় মারেন তিনি। এ দিন মুকুল চৌধরিও পারলেন না (৩ বলে ৭)। শামি করলেন ৬ রান। ময়ঙ্ক (৫), দিগ্বেশ (অপরাজিত ২), মহসিনেরা (০) ব্যাট হাতে নামেন নিয়ম রক্ষা করতে।

রাজস্থানের বোলারদের মধ্যে নান্দ্রে বার্গার ২৭ রানে ২ উইকেট নিলেন। লখনউয়ের ইনিংসকে ২৯ রানে ১ উইকেট জাডেজার। জফ্রা আর্চার ২০ রানে ৩ উইকেট নিলেন। তিনি এবং বার্গার লখনউকে রক্ষণাত্মক হতে বাধ্য করেন ইনিংসের শুরু থেকে। ১৮ রানে ২ উইকেট ব্রিজেশ শর্মার। রবি বিশ্নোই ১ উইকেট নিলেন ২৩ রান খরচ করে।

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়ে গেল প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হল না উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে বোর্ড।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার।
Rajasthan Royals Lucknow Super Giants
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy