ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটেছিল বিগ ব্যাশ লিগে। বাবর আজ়ম রান নিতে চাইলেও তাতে রাজি হননি স্টিভ স্মিথ। বিতর্ক হয়েছিল। অপমানিত বোধ করেছিলেন বাবর। তারই পুনরাবৃত্তি হল পাকিস্তান সুপার লিগে। এ বার স্মিথ রান নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে ফিরিয়ে দেন সাহিবজ়াদা ফারহান। বাবরের অপমানের বদলা নিলেন ফারহান।
মুলতানের হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন স্মিথ ও ফারহান। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে কভার অঞ্চলে টোকা মেরে এক রান নেওয়ার চেষ্টা করেন স্মিথ। কিন্তু ফারহান রান নিতে চাননি। তিনি ফিরিয়ে দেন স্মিথকে। এই ঘটনায় খুশি হননি স্মিথ। ফারহানের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে।
ফারহানের এই কাজে খুশি পাকিস্তানের দর্শকেরা। তাঁরা পাক ওপেনারের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, দলের সিনিয়র সতীর্থকে করা অপমানের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন ফারহান। কেউ কেউ বলেছেন, এর পর ফারহানকে কোনও রেস্তরাঁয় নিয়ে গিয়ে খাওয়ানো উচিত বাবরের।
এই ঘটনার পরেই জানুয়ারি মাসে বিগ ব্যাশে হওয়া স্মিথ-বাবর কাণ্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সিডনি সিক্সার্সের হয়ে খেলছিলেন স্মিথ ও বাবর। সিডনি থান্ডার্সের বিরুদ্ধে ১১তম ওভারে রান করতে পারছিলেন না বাবর। কয়েকটি ডট বলও (যে বলে রান হয় না) খেলেছিলেন। অথচ ১১তম ওভারের শেষ বলে খুচরো রান নিতে চেয়েছিলেন। ২২ গজে অন্য প্রান্তে থাকা স্মিথ রাজি হননি। বাবরের মন্থর ব্যাটিংয়ের উপর আস্থা রাখতে পারেননি তিনি। ১ রান নেওয়ার সহজ সুযোগ থাকলেও বাবরের ডাকে সাড়া দেননি। সম্ভবত ১২তম ওভারে নিজে ব্যাট করে দলের রান বাড়িয়ে নিতে চেয়েছিলেন স্মিথ। রান নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হতে রেগে গিয়েছিলেন বাবর। মাঠেই বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
১২তম ওভারে চারটি ছক্কা মেরেছিলেন স্মিথ। রায়ান হ্যাডলির করা ওই ওভারে মোট ৩২ রান তুলেছিলেন স্মিথ। ৪২ বলে পূর্ণ করেছিলেন শতরান। এর পরের ওভারে ক্রিস গ্রিনের প্রথম বলেই আউট হয়ে গিয়েছিলেন বাবর। ৩৯ বলে ৪৭ রান করে আউট হয়ে আরও রেগে গিয়েছিলেন। সাজঘরে ফেরার সময়ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। ব্যাট দিয়ে আঘাত করেছিলেন বাউন্ডারি লাইনের দড়িতে। পাক ব্যাটারের এই আচরণের ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল সমাজমাধ্যমে।
‘কোড স্পোর্টস’ জানায়, আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে বাবর সতীর্থদের জানিয়েছিলেন, স্মিথ তাঁকে অপমান করেছেন। সতীর্থেরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও বাবর কিছু শোনেননি। সিডনির কোচ গ্রেগ শিপার্ডও বাবরের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাতেও নাকি বাবর শান্ত হননি। খেলা শেষে যখন দু’দলের ক্রিকেটারেরা এক অপরের সঙ্গে যখন হাত মেলাচ্ছিলেন, তখনও বাবরকে সেখানে দেখা যায়নি। জানা গিয়েছিল, তিনি দলের জয়ের উল্লাসেও অংশ নেননি। সাজঘরেই ছিলেন পাকিস্তানের ব্যাটার। পরে অবশ্য স্মিথ দাবি করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কোনও সমস্যা হয়নি।