টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে ছিটকে গিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন দাসুন শনকা। তবে এই হারের জন্য তাঁর দলকে যে ভাবে সমালোচিত হতে হচ্ছে, সেটা আর নিতে পারছেন না শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। তাঁর দেশের সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
বুধবার সুপার এইটের ম্যাচে নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ৬১ রানে হারার পর শনকা বলেছেন, ‘‘আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটা আমরা জিততে পারতাম। একটু সচেতন হলেই জিতে যেতাম। নিউ জ়িল্যান্ড ম্যাচটা ছিল একপেশে। দর্শকদের উদ্দেশে আমার কিছু বলার নেই। আমরা ওঁদের খুশি করতে পারিনি। জয় উপহার দিতে পারিনি।’’
ক্ষমা চাওয়ার পরেও হারের জন্য সমালোচকদেরই দায়ী করেছেন শনকা। ‘বাইরে থেকে তৈরি হওয়া নেতিবাচক পরিবেশ’-কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। ম্যাচের পর বলেন, ‘‘খেলোয়াড় হিসাবে বাইরের শোরগোল নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে খুব কঠিন। অধিকাংশ সময় আমরা শুধু নেতিবাচক কথাই শুনি। ফলে আমরা নিজেরা কতটা ইতিবাচক থাকলাম সেটা বড় কথা নয়, বাইরে থেকে একটা নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এটা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের জন্য বড় প্রতিকূলতা। আমাদের খেলা বলতে তো শুধু এটাই (ক্রিকেট) রয়েছে। আমার মনে হয় না এটাকে আর বাঁচানো সম্ভব। কেন এত নেতিবাচকতা ছড়ানো হচ্ছে? ঠিক আছে আমরা বিশ্বকাপ হেরেছি। আমরা তার কারণগুলোও জানি এবং আমাদের সকলেরই দুশ্চিন্তা রয়েছে।’’
এর পরেই শনকার নজিরবিহীন অনুরোধ। বলেন, ‘‘আমরা হয়তো এক দিন খেলা ছেড়ে চলে যাব। কিন্তু অন্তত পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভেবে যদি সরকার হস্তক্ষেপ করে এবং এ সব সমালোচনা বন্ধ করতে পারে, তবেই হবে।’’
গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তার পর দলের এই অধঃপতনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধিনায়ক দেশের উইকেটেরও সমালোচনা করেন। বলেন, উইকেট তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করেনি। শনকার দাবি, ‘‘প্রতিযোগিতা শুরুর আগে আমি বলেছিলাম যে, আশা করছি ভাল উইকেট পাব। সত্যি বলতে, যা হয়েছে তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। কেউ ব্যর্থ হওয়ার জন্য মাঠে নামে না। সবাই ভাল খেলা এবং দেশকে জেতানোর লক্ষ্য নিয়েই নামে।’’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা সব সময় মনের মতো সব কিছু পাই না। মাঝেমাঝে খুব ছোট ছোট কারণে বা যা আমরা ভাবতেও পারি না এমন সব ঘটনায় ম্যাচ হেরে যাই। খেলোয়াড় হিসাবে আমরা এতে সত্যিই খুব ব্যথিত।’’
শনকা স্বীকার করে নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের শারীরিক সক্ষমতা ভাল জায়গায় ছিল না। এবং বিশ্বকাপ যত এগিয়েছে, চোটের তালিকাও দীর্ঘ হয়েছে। প্রতিযোগিতার শুরুতেই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে দলের প্রধান পেসার মাথিশা পাথিরানা ছিটকে যান। অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গাও চোট পান। শনকা বলেন, ‘‘আমার মনে হয় না শারীরিক সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। আমাদের চার-পাঁচ জনের চোট, সেরা ক্রিকেটারেরা বাইরে।’’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘গত কয়েকটা বিশ্বকাপ দেখলে বোঝা যাবে, শ্রীলঙ্কাই চোট-আঘাতের সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভুগেছে। আমার মনে হয় ফিটনেসের দিক থেকে অন্য দলগুলো আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে।’’
ফিটনেসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দেশের হয়ে খেলার সময় ফিটনেস হওয়া উচিত এক নম্বর অগ্রাধিকার, কারণ এ নিয়ে কোনও আপস চলে না। সবাই জানে হাসরঙ্গা কত ভাল এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। মাথিশা পাথিরানা এবং এশান মালিঙ্গার গুরুত্বও আমাদের দলে অনেক। তবে আমি এটাকে অজুহাত হিসাবে খাড়া করছি না।’’
সুপার এইটে ভরাডুবির পর অধিনায়ক থাকার ব্যাপারে শনকা অনিশ্চিত। তিনি মনে করেন বড় প্রতিযোগিতার আগে শ্রীলঙ্কার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। বলেন, ‘‘অধিনায়ক হিসেবে আমি জানি না আর কত দিন দায়িত্বে থাকব। এটা নির্বাচক এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড ঠিক করবে। তবে দীর্ঘ দিন এই সুযোগ পাওয়ায় আমি খুশি। আমি অনেক ভাল সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আবার ভুলও করেছি। অধিনায়ক হিসাবে বিশ্বকাপ খেলতে পেরে আমি তৃপ্ত।’’