শুভমনের গিলের জায়গায় নেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ে প্রত্যাশামাফিক খেলতে পারেননি তিনি। সে কারণে বাদও পড়েছিলেন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকে। সেই সঞ্জু স্যামসনই বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন। নিউ জ়িল্যান্ডের সিরিজ়ের পর কী ভাবে সঞ্জুকে ফর্মে ফিরিয়েছিলেন তা নিয়ে মুখ খুললেন সূর্যকুমার যাদব। পাশাপাশি, অভিষেক শর্মার উপর আস্থা রাখার কারণ এবং অক্ষর পটেলের রেগে যাওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সূর্য বলেছেন, “আমার মনে আছে, এক দিন সঞ্জু আমার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘দলের জন্য তুমি আমার থেকে কী চাও সেটা এক বার বলো’। আমি বলেছিলাম, ‘এমন সঞ্জুকে দেখতে চাই যে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ছারখার করে দিতে পারে’। এর পর ও গোটা দলকে বলেছিল, ‘আমরা কী চাই, তার থেকেও বড় হল দল কী চায়। সে ভাবেই আমরা খেলব। তবেই ভাল কিছু করা সম্ভব’।”
সূর্যের সংযোজন, “যখন সঞ্জু খেলছিল না তখন ওকে বলেছিলাম, ‘সময়টা কঠিন। কিন্তু তোমাকেই এটা পেরিয়ে যেতে হবে। যদি ঈশ্বর তোমার জন্য কিছু লিখে থাকেন, তুমি পাবেই’। সঞ্জুও নিজেকে সে ভাবেই তৈরি করছিল। সুযোগ এলেই ও লুফে নেওয়ার জন্য তৈরি ছিল।”
শেষ তিন ম্যাচে সঞ্জুর তিনটি ইনিংসই যে খেলা ঘুরিয়ে দিয়েছে তা মেনে নিয়েছেন সূর্য। পাশাপাশি শতরানের পরোয়া না করে যে ভাবে সঞ্জু খেলেছেন তাতেও মুগ্ধ তিনি। সূর্য বলেছেন, “চাইলে তিনটে ম্যাচেই শতরান করতে পারত সঞ্জু। কিন্তু ও দ্রুতগতিতে খেলছিল। যদি ৮৯ থেকে ১০০ রানে পৌঁছোতে আপনি তিন-চার বলের বদলে ১০ বল নেন, তা হলে দ্বিতীয় ব্যাটারের থেকে আপনি ছ’বল কেড়ে নিচ্ছেন। শিবম ৬ বলে ২৮, ৮ বলে ২৬ করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে সঞ্জু শতরানের পিছনে ধাওয়া করেনি বলেই। যে দলটা ২৫০-২৫৪ করেছিল তারা আটকে যেত ২৪০-২৪৫ রানেই। আমি সকলকে বলেছিলাম, অনেকের ১০ বছর লেগে যায় একটা আইসিসি ট্রফি জিততে। তোমাদের কাছে সুযোগ এসেছে ২৪-২৫ বছর বয়সে সেটা করার। পরের ১০ বছরে আরও তিনটে জিততে পারো।”
বিশ্বকাপের শুরুতে তিনটে শতরান করেছিলেন অভিষেক। সূর্য জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম বল যাতে অভিষেকই খেলেন, সেই প্রতিশ্রুতি তরুণ ব্যাটারকে দিয়েছিলেন তিনি। সূর্যের কথায়, “অভিষেক ছ’-আট ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেলে ম্যাচ শেষ করে দেবে। আমি এক বার ওকে বলেছিলাম, ‘বিশ্বকাপে ন’টা ম্যাচ রয়েছে। যদি তুমি আটটা ম্যাচেও ব্যর্থ হয় বা শূন্য করো, তা হলেও এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে ফাইনালে তুমিই প্রথম বলটা খেলবে’। এই ধরনের ক্রিকেটারেই ম্যাচ বদলে দেয়। আমি জানতাম এমন দিন আসবে যে দিন অভিষেক খেলা শেষ করে দেবে।”
সূর্যের সংযোজন, “ফাইনালে অক্ষর আমার পাশে বসে বলেছিল, দলে দু’জন বিশ্বের এক নম্বর ক্রিকেটার রয়েছে। ওরাই আজ খেলবে। অভিষেক খুব পরিশ্রম করছিল। ফাইনালে ১৮ বলে ৫০ করল। ছ’ওভারে ৯০ রান উঠে গেল। সেখান থেকে গোটা ম্যাচটাই ঘুরে গিয়েছিল। তাই ক্রিকেটারদের উপর আস্থা রাখা খুবই জরুরি।”
আরও পড়ুন:
দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে অক্ষরকে বসিয়ে দেওয়ায় তিনি খুবই রেগে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সূর্য। তাঁর কথায়, “রাগ হওয়াই উচিত ছিল। এত অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। আইপিএলে একটা দলের নেতা। আমি ক্ষমা চেয়েছিলাম। বলেছিলাম, একটা ভুল করেছি তার জন্য দুঃখিত। তবে দলের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অক্ষর ব্যাপারটা বুঝে সব মেনে নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল।”