মহম্মদ শামি, আকাশ দীপ, মুকেশ কুমার, শাহবাজ় আহমেদের মতো ভারতীয় দলের বোলারদের পিটিয়ে ১৫৪ বলে ২০০ রান আমন রাওয়ের। বিজয় হজারে ট্রফির ম্যাচে বাংলার বোলারেরা আউট করতেই পারলেন না হায়দরাবাদের ওপেনারকে। ২১ বছরের আমনের দাপটে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৫২ রান করল হায়দরাবাদ। জবাবে বাংলা করল ২৪৫। হায়দরাবাদের কাছে ১০৭ রানে হারায় বিজয় হজারে ট্রফির পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা শেষ হয়ে গেল বাংলার। অভিমন্যু ঈশ্বরণদের সমস্যায় ফেললেন মহম্মদ সিরাজও।
ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার বোলিং আক্রমণ অন্যতম সেরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা চার জন বোলার বাংলা দলে রয়েছেন। তবু আমনের মধ্যে কোনও সমীহ দেখা যায়নি। হায়দরাবাদের ইনিংস শুরু করতে নেমে প্রথম থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন। শামি, আকাশ, মুকেশ, শাহবাজ়েরা তাঁর আগ্রাসন থামাতে পারেননি। মাঠের সব দিকে অনায়াসে শট মেরেছেন। আমনের ১৫৪ বলে ২০০ রানের ইনিংসে রয়েছে ১২টি চার এবং ১৩টি ছক্কা। হায়দরাবাদের ইনিংসের শেষ বলে ছয় মেরে দ্বিশতরান পূর্ণ করেছেন তিনি। শেষ বলের আগে তাঁর রান ছিল ১৯৪। এর থেকেই বোঝা যায় কতটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে শামি-আকাশদের বল খেলেছেন তিনি। ৬৫ রানে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর আগ্রাসী হয়ে ওঠেন আমন। হায়দরাবাদের অন্য ওপেনার রাহুল সিংহও ভাল ব্যাট করেছেন। ৭টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে ৫৪ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। তাঁদের প্রথম উইকেটের জুটিতে ১৬ ওভারে ওঠে ১০৪ রান। এ ছাড়া অধিনায়ক তিলক বর্মা ৪৫ বলে ৩৪ এবং প্রজ্ঞয় রেড্ডি ২৫ বলে ২২ রান করেছেন।
আমনের জন্ম আমেরিকায়। হায়দরাবাদের বাসিন্দা তরুণ ক্রিকেটার এ দিনই প্রথম লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে শতরান করলেন। প্রথম শতরানকেই তিনি পরিণত করেছেন দ্বিশতরানে। তাঁর অপরাজিত ২০০ রানের ইনিংস হায়দরাবাদের ক্রিকেটে নজিরও তৈরি করেছে। তাঁর আগে হায়দরাবাদের কোনও ক্রিকেটার ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দ্বিশতরান করতে পারেননি। এ বারের বিজয় হজারে ট্রফিতে ওড়িশার স্বস্তিক সামালের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসাবে দ্বিশতরানের ইনিংস খেললেন আমন। দেশের নবম ব্যাটার হিসাবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। বাবার কর্মসূত্রে আমেরিকায় জন্ম হলেও হায়দরাবাদেই বড় হয়েছে আমন। সাদা বলের ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটার হিসাবে পরিচিত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৬০-এর বেশি। বিভিন্ন অনূর্ধ্ব পর্যায়ের ক্রিকেটে ব্যাট হাতে নজর কাড়ার পর হায়দরাবাদের সিনিয়র দলে সুযোগ পেয়েছেন। রাজ্যের অনূর্ধ্ব-২৩ ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতায় ছ’ম্যাচে ৬৩.৫০ গড়ে করেন ৩৮১ রান। একটি শতরান এবং তিনটি অর্ধশতরানও করেন। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে অর্ধশতরান করেন। প্রথম বার আইপিএলেও খেলতে পারেন আমন। গত নিলামে তাঁকে ৩০ লাখ টাকায় কিনেছে রাজস্থান রয়্যালস।
বাংলার সফলতম বোলার অবশ্য শামিই। ১০ ওভারে ৭০ রান দিলেও হায়দরাবাদের মিডল অর্ডারের তিন ব্যাটারকে আউট করেছেন। তিলককে আউট করেন শাহবাজ়। ৫৭ রানে ১ উইকেট তাঁর। রোহিত কুমার ১ উইকেট নিয়েছেন ৬১ রানে। আকাশ ৮ ওভারে ৭৮ রান এবং মুকেশ ৭ ওভারে ৫৫ রান খরচ করলেও উইকেট পাননি। উইকেট পাননি করণ লালও।
আরও পড়ুন:
জয়ের জন্য ৩৫৩ রান তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যের মুখে পড়ে বাংলা। ৫০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাকে বাঁচাতে পারেনি শাহবাজ়ের অপরাজিত ১০৮ রানের ইনিংসও। বাংলার প্রথম চার উইকেটের তিনটিই তুলে নেন সিরাজ। সুমিত নাগ (১০), ঈশ্বরণ (১৫), করণ লাল (১৩), সুদীপ ঘরামি (০) পর পর আউট হয়ে যান। চাপের মুখে অনুষ্টুপ মজুমদার এবং শাহবাজ় পঞ্চম উইকেটের জুটিতে তোলে ৯৬ রান। অভিজ্ঞ অনুষ্টুপ করেছেন ৭২ বলে ৫৯ রান। ৪টি চার এবং ১টি ছয় মেরেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২২ গজের এক প্রান্ত আগলে ছিলেন শাহবাজ়। তাঁর ১১৩ বলের ইনিংসে রয়েছে ৯টি চার এবং ৪টি ছক্কা। বাংলার পরের দিকের ব্যাটারেরাও দলকে ভরসা দিতে পারেননি। ৪৪.৪ ওভারে ২৪৫ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলার ইনিংস। হায়দরাবাদের কাছে ১০৭ রানে হেরে বিজয় হজারে ট্রফি থেকেও বিদায় নিল লক্ষ্মীরতন শুক্লর দল। হায়দরাবাদের সফলতম বোলার সিরাজ ৫৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ৩২ রানে ২ উইকেট নীতীশ কুমার রেড্ডির।