প্রথম সুযোগ আসতে সময় লাগতে পারে। তবে এক বার এসে গেলে তাকে দু’হাতে লুফে নিতে হয়। সেটাই করলেন রামকৃষ্ণ ঘোষ। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএল অভিষেকেই নজর কেড়ে নিলেন তিনি। শরীর ছুড়ে একটি ক্যাচ যেমন নিয়েছেন, তেমনই বল হাতে সূর্যকুমার যাদবের উইকেটও এসেছে। বাঙালি রামকৃষ্ণ নজর কেড়েছেন গোটা দলের।
রামকৃষ্ণ জন্ম ১৯৯৭-এর ২৮ অগস্ট, নাসিকে। বাঙালি হলেও তিনি মহারাষ্ট্রের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন। তাঁর বাবা শেখর ঘোষ ক্রিকেট কোচ। তিনিও দীর্ঘ দিন ধরে মহারাষ্ট্রে রয়েছেন। বাবার কাছেই ক্রিকেটের প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছেন রামকৃষ্ণ। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে ঘরোয়া ক্রিকেট, পাঁচ ফুট ১০ ইঞ্চির ক্রিকেটার নিজের প্রতিভার জোরে বিভিন্ন দলে জায়গা আদায় করে নিয়েছেন।
রামকৃষ্ণ মূলত বোলার-অলরাউন্ডার। গতিতে নিয়ন্ত্রণ রেখে বল করতে পারেন। লাইন এবং লেংথ তাঁর আসল শক্তি। ব্যাটার হিসাবে তিনি মূলত খেলেন লোয়ার অর্ডারে। দরকারে চালিয়ে খেলে দলকে জেতাতে পারেন। ২০২৪ মহারাষ্ট্র প্রিমিয়ার লিগে একটি ম্যাচে ৩৩ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে তিনি দলকে জিতিয়েছিলেন।
রাজ্য দলের হয়ে তিনটি ফরম্যাটেই খেলে ফেলেছেন রামকৃষ্ণ। তবে অভিষেক হয়েছে টি-টোয়েন্টি দিয়েই। ২০২২-এ কর্নাটকের বিরুদ্ধে সৈয়দ মুস্তাক আলিতে খেলার মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটে পা রাখেন। পরের বছর বিজয় হজারে ট্রফি এবং ২০২৪-এ রঞ্জি ট্রফি খেলেন। এখনও পর্যন্ত ১৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ২৮টি উইকেট রয়েছে তাঁর। লিস্ট এ ক্রিকেটে ১১টি ম্যাচে ২১টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৯টি ম্যাচে ২টি উইকেট রয়েছে। ২০২৪-২৫ রঞ্জি ট্রফিতে মাত্র ৬টি ম্যাচে ১১টি উইকেট নিয়েছিলেন। মহারাষ্ট্র প্রিমিয়ার লিগে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নির্বাচকদের নজর কাড়ে। ২০২৪-এ তাঁর অলরাউন্ড দক্ষতা শুধু সমর্থকদেরই মুগ্ধ করেনি, নজর কেড়েছিল আইপিএল দলগুলিরও।
২০২৫-এ চেন্নাই তাঁকে নিলামে কেনে। সেই মরসুমে একটিও ম্যাচে খেলেননি। তবু ধরে রাখা হয়েছিল রামকৃষ্ণকে। এ বছর প্রথম সাতটি ম্যাচে ডাগআউটে বসে থাকার পর অষ্টম ম্যাচে সুযোগ পেলেন। নেমেই মাতিয়ে দিলেন। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে মুম্বইয়ের উইল জ্যাকস চালিয়ে খেলেছিলেন। বল যাচ্ছিল ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টের দিকে। অনেকটা দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল তালুবন্দি করেন রামকৃষ্ণ। রিভিউ দেখে জ্যাকসকে আউট দেওয়া হয়।
এর পর ১১তম ওভারে তিনি প্রথম আইপিএল উইকেট পান। আউট করেন সূর্যকুমার যাদবকে। খাটো লেংথের বল পয়েন্টের উপর দিয়ে মারতে গিয়েছিলেন সূর্য। সুইপার কভারে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ক্যাচ ধরেন।
অতীতে ‘মাইখেল’কে এক সাক্ষাৎকারে রামকৃষ্ণ জানিয়েছিলেন, ক্রিকেট খেলার জন্য তিনি স্কুল ছেড়ে দিয়েছিলেন। রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, “তখন আমার ১৬ বছর বয়স। নবম শ্রেণিতে পড়ি। বাবা এক দিন জিজ্ঞাসা করেছিল, পড়তে চাও না ক্রিকেট খেলতে চাও? আমি ক্রিকেট বেছে নিয়েছিলাম। উনি আমাকে স্কুল ছাড়িয়ে দেন। বাড়ি থেকেই দশম শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছিলাম। আমার বন্ধুরা যখন পড়াশোনা করত, আমি ক্রিকেট খেলেছি। ওখান থেকেই খেলোয়াড়ি মানসিকতা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তার পর ধীরে ধীরে উন্নতি করি, দক্ষতায় শান দিই। হয়তো বাকিদের থেকে একটু দেরিতে ক্রিকেট শুরু করেছি। কিন্তু মানিয়ে নেব ঠিকই।”
সম্প্রতি বিজয় হজারে ট্রফিতে রামকৃষ্ণের একটি পারফরম্যান্স নজর কেড়েছিল। গোয়ার সামনে জিততে ১৮ বলে ১১ রান দরকার ছিল। ৪৮ এবং ৫০ ওভার করতে এসে একটিও রান দেননি রামকৃষ্ণ। সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “দারুণ মুহূর্ত ছিল ওটা। তবে পরিস্থিতিও অনেকটা সাহায্য করেছিল।”
মহারাষ্ট্র এবং চেন্নাই, দুই দলেই রামকৃষ্ণের অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। তাঁর অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা কেমন? রামকৃষ্ণ বলেছেন, “অসাধারণ লাগে। রুতুরাজ ঠান্ডা মাথার, বাস্তববাদী অধিনায়ক। সব সময় চিন্তা করে কী ভাবে ম্যাচে ফিরতে পারে। শুরুতে চার বা ছয় হজম করলেও আমাদের পাশে থাকে এবং বলে পরের চার ওভারে রান না দিতে। বোলারদের একটুও চাপ দেয় না।”
তবে রামকৃষ্ণের কাছে চেন্নাইয়ের হয়ে খেলার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মহেন্দ্র সিংহ ধোনির সঙ্গে সাজঘর ভাগ করে নেওয়া। তিনি বলেছিলেন, “আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা ধোনি, রুতুরাজ এবং কোচেদের থেকে পাওয়া শিক্ষা।”
আরও পড়ুন:
নিজের সাফল্যের নেপথ্যে কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি বাবা শেখরকে। বলেছিলেন, “বাকিদের থেকে দেরিতে সুযোগ পেয়েছি। অনূর্ধ্ব-১৯ বা অনূর্ধ্ব-২৩ দলে খেলার সময় সিনিয়রেরা ভাল খেলছিল। আমি ধৈর্য রেখেছিলাম। সকলেই ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখে। আমার মধ্যে বিশ্বাস এনে দিয়েছেন বাবা, যিনি মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন জোরে বোলার এবং আমার কোচ। আজ আমি যা সেটা বাবার জন্যই।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আইপিএলের ফাইনাল ৩১ মে, রবিবার। অহমদাবাদে হবে এ বারের ফাইনাল। নতুন কোনও দল এ বার চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে না।
- ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
- এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
-
আইপিএল জিতে বৈভবকে কাছে ডেকে কী বলেছিলেন কোহলি? ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিয়োয় অন্দরের কথা ফাঁস
-
গত বছরের পদপিষ্টকাণ্ডের স্মৃতি টাটকা! এ বার কি বেঙ্গালুরুতে বিজয়োল্লাস করবেন কোহলিরা? জানা গেল অন্দরের খবর
-
আইপিএলে ৭০০ রান করতে হবে, মরসুম শুরুর আগে লিখে রেখেছিল বৈভব! পাঁচটি পুরস্কার জেতার পর জানাল সূর্যবংশী
-
টানা দু’বার আইপিএল জয়! জন্মদিনে ধোনি, রোহিতকে ছুঁয়ে পরের লক্ষ্য জানিয়ে দিলেন আরসিবি অধিনায়ক পাটীদার
-
ফাইনাল না খেলেও আইপিএলের সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেটার বৈভব! কোন নিয়মে সকলকে ছাপিয়ে পুরস্কার পেল সূর্যবংশী