Advertisement
E-Paper

ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল! ২২ বছর পর, কিশোর ভারতীতে অবশেষে স্বপ্নপূরণ, যুবভারতীতে জিতেও গোলপার্থক্যে দুইয়ে মোহনবাগান

২২ বছর পর জাতীয় স্তরে ট্রফি জিতল ইস্টবেঙ্গল। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও ইন্টার কাশীকে হারাল তারা। লাল-হলুদের হয়ে গোল করলেন ইউসেফ এজ়েজারি ও রশিদ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ২১:২৭
football

কিশোর ভারতীতে জয়সূচক গোলের পর উল্লাস রশিদের। ছবি: এক্স।

ইস্টবেঙ্গল ২ - ইন্টার কাশী ১
মোহনবাগান ২ - এসসি দিল্লি ১
(গোলপার্থক্যে চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল)

যোগ্য দল হিসাবে ভারতসেরা হল ইস্টবেঙ্গল। যোগ্য দল হিসাবে প্রথম বার আইএসএল জিতল ইস্টবেঙ্গল। যোগ্য দল হিসাবে ২২ বছর পর জাতীয় স্তরে ট্রফি জিতল ইস্টবেঙ্গল। ২৪ ঘণ্টা আগে দলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো চেয়েছিলেন, শেষ ৯০ মিনিট নিজেদের সেরাটা দিক দলের ছেলেরা। সেটাই দিলেন মিগুয়েল ফিগুয়েরা, রশিদ, ইউসেফ এজ়েজারিরা। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারাল ইস্টবেঙ্গল। অবশেষে স্বপ্নপূরণ হল তাদের।

ইস্টবেঙ্গলের পাশাপাশি মোহনবাগানেরও সুযোগ ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। তার জন্য ইস্টবেঙ্গলকে পয়েন্ট নষ্ট করতে হত। পাশাপাশি জিততে হত বাগানকে। যুবভারতীতে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জিতল মোহনবাগান। গোল করলেন মনবীর সিংহ ও জেমি ম্যাকলারেন। ইস্টবেঙ্গলের মতোই ২-১ গোলে জিতল বাগান। দু’দলই ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্টে শেষ করল। কিন্তু গোলপার্থক্যে এগিয়ে থাকায় জিতল ইস্টবেঙ্গল। মহমেডানের বিরুদ্ধে ৭-০ গোলে জেতার সুবিধা পেল তারা। সমান পয়েন্ট পেয়েও দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল গত দু’বারের চ্যাম্পিয়নেরা। পঞ্জাব এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে তিন নম্বরে শেষ করল মুম্বই সিটি এফসি।

কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ৮১১২ দর্শক খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। বলা ভাল, ৮১১২ জন লাল-হলুদ সমর্থকই মাঠে ছিলেন। কিন্তু ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় তাঁদের চুপ করিয়ে দেয় ইন্টার কাশী। সুমিত পাসির লম্বা বলে পায়ের টোকায় প্রভসুখন সিংহকে পরাস্ত করে গোল করেন আলফ্রেড প্লানাস। এগিয়ে যায় ইন্টার কাশী।

পিছিয়ে পড়লেও ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ থামেনি। একের পর আক্রমণ করতে থাকে তারা। বিশেষ করে বাঁ প্রান্ত ধরে বিপিন সিংহের পায়ে একের পর এক ক্রস ভেসে আসতে থাকে ইন্টার কাশীর বক্সে। ভাল সুযোগ পেয়েছিলেন ইউসেফ এজ়েজারি। পায়ের টোকা লাগাতে পারলেই গোল হত। কিন্তু জোরে মারতে যান তিনি। ফলে বল বার উঁচিয়ে চলে যায়।

পয়েন্ট তালিকায় ইন্টার কাশী অনেকটা পিছনে থাকলেও প্রথমার্ধে তাদের খেলা দেখে তা মনে হচ্ছিল না। বেশ কয়েক বার গোল করার জায়গায় পৌঁছে যায় তারা। প্রভসুখন কোনও রকমে দলকে বাঁচিয়ে রাখেন। বিরতিতে পিছিয়ে মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল।

ম্যাচে ফিরতে গেলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করতে হত ইস্টবেঙ্গলকে। সে ভাবেই খেলা শুরু করে তারা। ফলও মেলে। ৪৯ মিনিটের মাথায় ইন্টার কাশীর গোলরক্ষক শুভম ধাসের ভুলে গোল করে সমতা ফেরান এজ়েজারি। ইস্টবেঙ্গলের এই ফরোয়ার্ড চলতি মরসুমে সর্বাধিক গোল করে সোনার বুট জিতলেন।

সমতা ফেরালেও জয় ছাড়া কিছু ভাবছিলেন না অস্কার। তাই আক্রমণ ভাগে একের পর এক খেলোয়াড় তুলে আনেন তিনি। আক্রমণে আরও জোর বাড়ায় লাল-হলুদ। অবশেষে সেই বিপিনের ক্রসে পা ছুঁইয়ে ৭২ মিনিটের মাথায় ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন রশিদ। মরসুমে প্রথম গোল করলেন তিনি। সেই গোলই লাল-হলুদকে চ্যাম্পিয়ন করল।

গোলের পর ফেন্সের উপর উঠে সমর্থকদের সঙ্গে উল্লাসে মাতেন রশিদের। অস্কারের মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কতটা স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। বাকি সময়টা খালি গোল না খেলেই হত। কারণ, অপর ম্যাচে তত ক্ষণে পঞ্জাবের বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েছিল মুম্বই। তাই ড্র হলে ইস্টবেঙ্গলের ট্রফি হাতছাড়া হত। অস্কারের ছেলেরা জানতেন, কী ভাবে অগ্রগমন ধরে রাখতে হয়। ইন্টার কাশী আক্রমণ করে গেলেও রক্ষণের ফাঁক খুঁজে পায়নি তারা।

শেষ পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও গোল করতে পারেনি ইন্টার কাশী। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হল উল্লাস। কোচ, ফুটবলারদের সঙ্গে বাঁধনভাঙা উল্লাসে মাতলেন লাল-হলুদ জনতা। এত বছরের অপেক্ষার অবসান হল। ভারতসেরা হল ইস্টবেঙ্গল। অন্য দিকে শেষ পর্যন্ত মোহনবাগান জিতলেও হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হল সবুজ-মেরুন সমর্থকদের।

East Bengal Mohun Bagan
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy