মোহনবাগান যে সহজেই ওড়িশাকে হারাবে তা আগে থেকেই স্পষ্ট ছিল। বাকিটা যুবভারতীতে নেমে দেখালেন জেমি ম্যাকলারেনরা। ওড়িশা এফসি-কে ৫-১ গোলে হারিয়ে আইএসএলে টানা চার ম্যাচ জিতেছে মোহনবাগান। এই জয়ের পর দলের খেলায় খুশি মোহনবাগান কোচ সের্জিয়ো লোবেরা।
খেলা শেষে সাংবাদিক বৈঠকে লোবেরা বলেন, “আমি উচ্ছ্বসিত। খুব ভাল ম্যাচ খেলেছি। বড় ব্যবধানে জিতেছি। এই পারফরম্যান্সের পর খুশি হওয়ারই তো কথা।” তবে পাশাপাশি একটি গোলও হজম করতে হয়েছে মোহনবাগানকে। আগের দিন মহমেডানের বিরুদ্ধেও গোল খেয়েছে বাগান। তাতে অবশ্য খুব একটা চিন্তা করছেন না লোবেরা। বাগান কোচ বললেন, “আমরা ঝুঁকি নিয়েছি। তাই গোল খেয়েছি। নইলে হয়তো এই ম্যাচ ২-০ গোলে জিততাম। ঝুঁকি নিয়েছি বলেই ৫-১ গোলে জিতেছি। তাতে একটা গোল হজম করতে হয়েছে। চিম্তার কিছু নেই। আমি এ ভাবেই ফুটবল খেলাতে ভালবাসি।”
তবে এখনই আত্মতুষ্টি দেখাতে চান না লোবেরা। কারণ, তিনি জানেন, ১৩ ম্যাচের লিগে একটি ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করলে তার খেসারত দিতে হতে পারে। দলে এখনও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। প্রথমার্ধেই ৪-১ গোলে এগিয়েছিল বাগান। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র একটি গোল দিয়েছে দল। আরও গোল হলে গোলপার্থক্য বাড়িয়ে রাখা যেত।
লোবেরা বলেন, “এখনও উন্নতির অনেক জায়গা আছে। প্রথমার্ধে ৪-১ গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও অনেক সুযোগ তৈরি করেছিলাম। কিন্তু গোল হয়নি। আরও গোল করতে হবে। প্রতি দিন আরও উন্নতি করতে হবে। তবে দলের খেলায় আমি খুশি।”
আরও পড়ুন:
দলের মতোই ফর্মে রয়েছেন ম্যাকলারেন। চার ম্যাচে সাত গোল করে ফেলেছেন তিনি। তার মধ্যে ওড়িশার বিরুদ্ধে করেছেন চার গোল। যদিও এই সাফল্যের কৃতিত্ব দলের ভারতীয়দের দিচ্ছেন তিনি। কোচের পাশে বসে জেমি বললেন, “এই দলে বিদেশিদের যতটা ভূমিকা, ঠিক ততটাই ভূমিকা দেশীয় ফুটবলারদের। ভারতের জাতীয় দলে খেলা অনেক ফুটবলার মোহনবাগানে খেলে। তাদের মান বেশ ভাল। ওরা ক্রস না দিলে কী ভাবে গোল করতাম। তাই এই গোল যতটা না আমার, ততটাই ওদেরও। শেষ পর্যন্ত যে দল জিতেছে তাতেই আমি খুশি।”
চার ম্যাচে চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার শীর্ষে রয়েছে মোহনবাগান। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জামশেদপুরের পয়েন্টও ১২। ফলে মোহনবাগানের স্বস্তিতে থাকার জায়গা নেই। বাগানের পরের ম্যাচ ১৪ মার্চ। প্রতিপক্ষ বেঙ্গালুরু এফসি। চলতি মরসুমে প্রথম বার যুবভারতীর বাইরে খেলতে নামবে দল। তার আগে দলের খেলায় খুশি লোবেরা।