ডাগ আউটে বসে সারা ক্ষণই খেলার মধ্যে ঢুকে থাকেন গৌতম গম্ভীর। কখনও কখনও তো জলপানের বিরতিতে নেমে পড়েন মাঠেও। ব্যাটিং অর্ডারেও দেখান বেশ কিছু চমক। তেমনই চমক গম্ভীর দেখালেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ওয়াংখেড়েতে মগজাস্ত্রের লড়াই ছিল গম্ভীর ও ব্রেন্ডন ম্যাকালামের। সেই লড়াইয়ে বাজিমাত করলেন ভারতের কোচ। তাঁর এক চালে জিতল ভারত।
ভারতের ইনিংসের দশম ওভারে আদিল রশিদের বলে আউট হন ঈশান কিশন। ভারতের হয়ে সাধারণত চার নম্বরে নামেন সূর্যকুমার যাদব। কিন্তু সকলকে অবাক করে দিয়ে নামতে দেখা যায় শিবম দুবেকে। উইকেট নেওয়া রশিদকে নিশানা করেন শিবম। তাঁর আট বলে ২২ রান করেন তিনি। সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান যে রান তোলার গতি বাড়িয়েছিলেন, সেই গতি আরও বাড়িয়ে দেন শিবম। তাতে ভারত বড় রানের পথে এগোয়।
গম্ভীরের ব্যাটিং অর্ডার একটি নিয়মে চলে। বাঁহাতি ব্যাটার আউট হলে তিনি সাধারণত বাঁহাতি ব্যাটার নামান। আবার ডানহাতি আউট হলে ডানহাতি। সেই নিয়মে কিন্তু শিবমকে নামাননি তিনি। তা হলে তো তিলক বর্মা বা অক্ষর পটেলকেও নামাতে পারতেন। তাঁরাও তো বাঁহাতি। গম্ভীরের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি বড় কারণ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
শিবম স্পিন ভাল খেলেন। বিশেষ করে লেগ স্পিন। রশিদ লেগ স্পিনার। দীর্ঘদেহী শিবমের ব্যাটের রেঞ্জ বাকিদের থেকে বেশি। তিনি বলের বেশি কাছে পৌঁছোতে পারেন। এই মুহূর্তে শুধু ভারতে নয়, বিশ্বক্রিকেটে লেগ স্পিনারের বিরুদ্ধে শিবমের থেকে ভাল ব্যাটার কম রয়েছে। সেই কারণেই শিবমকে ওই সময়ে নামিয়ে দেন গম্ভীর।
সেই সিদ্ধান্ত কাজে লাগে। ২৫ বলে ৪৩ রান করেন শিবম। ভারতের রান তোলার গতি কমেনি। সেই কারণেই ২৫৩ রান পর্যন্ত যায় ভারত। নইলে হয়তো রান কম হত। তাতে হেরেও যেতে পারত ভারত। তাই বলা যায়, বৃহস্পতিবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে হারানোর নেপথ্যে রয়েছে গম্ভীরের মগজাস্ত্র। তাঁর এক চালেই বাজিমাত করেছে ভারত।