আফ্রিকার ফুটবলে নাটক থামার নাম নেই। আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস (অ্যাফকন) প্রতিযোগিতায় নাটকীয় ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়েছিল সেনেগাল। কিন্তু তার পরেও তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারল না। তাদের কাছ থেকে ট্রফি কেড়ে নিয়ে দেওয়া হল মরক্কোকে। নেপথ্যে আফ্রিকার ফুটবলের এক নিয়ম।
ফাইনালে রেফারির এক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠ ছেড়েছিল সেনেগাল। পরে আবার খেলতে নামে তারা। আফ্রিকার ফুটবল সংস্থার ৮২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, রেফারির নির্দেশ না মেনে বা তাঁর অনুমতি না নিয়ে কোনও দল মাঠ ছাড়লে সেই দলকে ০-৩ গোলে পরাজিত ধরে নেওয়া হবে।
সেই কারণেই ফাইনালে সেনেগালের গোল ধরা হবে না। পরিবর্তে মরক্কো ৩-০ গোলে জিতেছে ধরা হবে। ফাইনালের পর আফ্রিকার ফুটবল সংস্থার কাছে সেনেগালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল মরক্কো। তারই তদন্তে এই কথা জানিয়েছে ফুটবল সংস্থা। অর্থাৎ, এ বার ট্রফি সেনেগালের কাছ থেকে নিয়ে মরক্কোকে দেওয়া হবে। এই প্রথম বার আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন দেশ হবে মরক্কো।
ফাইনালে ঠিক কী হয়েছিল?
অনেক চেষ্টা করেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও দল গোল করতে পারেনি। ৯২ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে গোল করে সেনেগাল। তবে রেফারি সেই গোল বাতিল করেন। কারণ, হেডে গোল করার আগে বক্সে মরক্কোর ফুটবলারকে ফাউল করেছিলেন সেনেগালের ফুটবলার।
পরের মিনিটেই সেনেগালের বক্সে ফাউল করা হয় মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ়কে। রেফারি পেনাল্টি দেন। সেনেগালের ফুটবলারেরা প্রতিবাদ করেন। তখন ভার প্রযুক্তির সাহায্য নেন রেফারি। তার পরেও সিদ্ধান্ত বদলাননি তিনি। রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে সেনেগালের কোচ পাপে বৌনা থিয়াও সব ফুটবলারকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মেনে সেনেগালের ফুটবলারেরা মাঠ ছাড়েন।
আরও পড়ুন:
সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে সেনেগালের কোচকে অনেক বার মাঠে নামার আবেদন করেন চতুর্থ রেফারি। তাতেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেনেগালের অধিনায়ক সাদিয়ো মানের কথা শুনে মাঠে নামেন ফুটবলারেরা। প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ থাকার পর শুরু হয় খেলা।
নাটকের তখনও বাকি ছিল। খেলা শুরুর পর পেনাল্টি নিতে যান দিয়াজ়। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলা দিয়াজ় পানেনকা কিক মারার চেষ্টা করেন। কিন্তু তৎপর ছিলেন সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি। বল ধরে নেন তিনি।
দেখে মনে হচ্ছিল, খেলা টাইব্রেকারে যাবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে গোল করেন পাপা গুয়েই। সেই গোলেই ফয়সালা হয়। যদিও তার পরেও চ্যাম্পিয়ন হওয়া হল না সেনেগালের। ট্রফি চলে গেল মরক্কোর কাছে।