ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ইরানের উপর নতুন শর্ত চাপাল আমেরিকা। শর্ত মানলে তবেই ইরানের ফুটবল দলকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। আগামী বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ অবশ্য এখনও নিশ্চিত নয়।
আগামী ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডা। গ্রুপ পর্বে ইরানের সব ম্যাচই রয়েছে আমেরিকায়। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তা আরও বাড়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের জন্য। আপাতত যুদ্ধ বিরতি চললেও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের প্রথম দফার সমঝোতা বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। তাতে হরমুজ় প্রণালীতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুবিয়োর মন্তব্য নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আমেরিকার বিদেশ সচিব বলেছেন, ‘‘ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপ খেলতে আমেরিকায় আসা নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। ইরানের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু দলের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) কেউ থাকতে পারবেন না। ফুটবলারদের সঙ্গে যাঁরা আসবেন, তাঁদের কেউ যেন কোনও ভাবে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত না হন। তেমন কেউ থাকলে আমরা হয়তো তাঁকে আমেরিকায় ঢুকতে দেব না।’’
রুবিয়ো আরও বলেছেন, ‘‘আমেরিকার পক্ষ থেকে কখনও বলা হয়নি বিশ্বকাপ খেলতে ইরানের ফুটবলারেরা আসতে পারবে না। কিন্তু আইআরজিসি জঙ্গিদের সাংবাদিক বা ট্রেনার সাজিয়ে নিয়ে আসা যাবে না।’’ উল্লেখ্য, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
রুবিয়ো ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে আশ্বাস দিলেও কয়েক দিন আগে সংশয় বাড়িয়েছিলেন ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ পাওলো জ়ামপোলি। তিনি বলেছিলেন, ইরানের পরিবর্তে বিশ্বকাপে ইটালিকে খেলার সুযোগ দেওয়া হোক। ফিফা অবশ্য তাঁর ওই মন্তব্য সমর্থন করেনি। আবার আমেরিকা থেকে ইরানের ম্যাচ সরানোর দাবিও খারিজ করে দিয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিশ্বকাপ আয়োজন সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না। অন্য দিকে ট্রাম্পও সুর নরম করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা ইরানের ফুটবলারদের উপর সংঘাতের কোনও প্রভাব ফেলতে চাই না।’’
ট্রাম্প কিছু দিন আগে সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় দলকে স্বাগত। কিন্তু আমি মনে করি না, এই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওদের এখানে আসা উচিত।’’ তার জবাবে ইরানের ফুটবল দলের পক্ষে বলা হয়েছিল, ‘‘বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। কোনও ব্যক্তি বা দেশ নয়। ইরানের জাতীয় দল তার শক্তি এবং সাহসী ফুটবলারদের জন্য ধারাবাহিক ভাবে সাফল্য অর্জন করেছে। সে কারণে প্রতিযোগিতার যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলির মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। কেউ ইচ্ছা হলেই ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারে না। বাদ দিতে হলে এমন একটি দেশকে বাদ দেওয়া উচিত, যারা শুধু আয়োজক। অথচ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব দলকে নিরাপত্তা দিতে পারে না।’’
আরও পড়ুন:
এশিয়ার অন্যতম সেরা দল হিসাবে গত বছর বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরান। বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি তাদের খেলার কথা লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সিয়াটেলে। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সব কিছু খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।