সনিয়া গাঁধীর বাড়িতে দলের কৌশলগত বৈঠকের পরে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সংসদে যাবেন বলে। পরে সনিয়া গাঁধীর বার্তা এল তাঁর কাছে। লোকসভায় গিয়ে সামনের সারিতে বসতে হবে তাঁকে। তত ক্ষণে লোকসভার সচিবালয়ের কাছে কংগ্রেসের সংসদীয় দলনেত্রী সনিয়ার চিঠি চলে গিয়েছে। যেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা হচ্ছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী!

সনিয়ার এই সিদ্ধান্তেই বাংলা থেকে এই প্রথম লোকসভায় বিরোধী নেতার মর্যাদা পেল কংগ্রেস। প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে দু’জন সাংসদ কম থাকায় আনুষ্ঠানিক ভাবে বিরোধী দলনেতার পদ কংগ্রেসের পক্ষে পাওয়া মুশকিল। দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসে নরেন্দ্র মোদীর সরকার সংখ্যার গেরো কাটিয়ে কংগ্রেসকে বিরোধী দলনেতার পদ দিলে অবশ্য আলাদা কথা। কিন্তু এখন লোকসভায় মোদীদের সঙ্গে টক্কর নিতে কংগ্রেসের মুখ হিসেবে থাকবেন অধীরবাবুই।

রাহুল গাঁধী এ বারও লোকসভায় দলনেতার পদ নিতে চাননি। তার পরেই বেছে নেওয়া হয়েছে বহরমপুরের পাঁচ বারের সাংসদকে। এতে যেমন এক দিকে জাতীয় স্তরে আক্রমণাত্মক, নতুন মুখ তুলে আনলেন সনিয়ারা, তেমনই আদ্যন্ত তৃণমূল-বিরোধী এক নেতাকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করা হল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে তিন বছর আগে বাংলায় বিধানসভা ভোটে বামেদের সঙ্গে সমঝোতার পথে গিয়েছিলেন অধীরবাবু। এ বার বাড়তি গুরুত্বপ্রাপ্ত অধীরবাবুকে সামনে রেখে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে কংগ্রেসের ভূমিকা কেমন হয়, সে দিকে নজর থাকবে সব মহলেরই।

আরও পডু়ন: সংঘর্ষে হত পুলওয়ামা চক্রী সাজ্জাদ, মৃত্যু জওয়ানেরও

সংসদে অবশ্য বিরোধীদের মধ্যে সমন্বয় করে চলার কথাই অধীরবাবুকে এ দিন মনে করিয়ে দিয়েছেন সনিয়া। লোকসভায় শপথ নেওয়ার পরে তৃণমূল সাংসদদের অনেকেই কথা বলে গিয়েছেন অধীরবাবুর সঙ্গে। তিনিও বলেছেন, বাংলায় যেমন রাজনীতি করছেন, তেমনই চলবে। আর সংসদের প্রথা মেনে সমন্বয় থাকবে।

লোকসভার অধিবেশন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে কংগ্রেসের কৌশল নির্ণয়ের বৈঠকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল অধীরবাবুকে। দু’দিন আগে সংসদে সর্বদল বৈঠকে সনিয়ার নির্দেশে অধীরবাবু কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়ায় ইঙ্গিত মিলছিল, দিল্লিতে তাঁর দায়িত্ব বাড়তে চলেছে। কংগ্রেস সূত্রের থবর, বৈঠক থেকে অধীরবাবুরা বেরিয়ে যাওয়ার পরে এ দিন আলোচনায় বসেন সনিয়া, রাহুল, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা ও মনমোহন সিংহ। রাহুল লোকসভার দলনেতার পদ নিতে রাজি নন দেখেই অধীরবাবুর নাম জানিয়ে সংসদে চিঠি পাঠান সনিয়া। ইউপিএ-১ জমানায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন রাজ্যসভার সাংসদ থাকায় লোকসভায় শাসক দল কংগ্রেসের নেতা হয়েছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। বিরোধী ভূমিকায় বাংলার কংগ্রেসের জন্য এই আসনপ্রাপ্তি এই প্রথম।

দিনভর অভিনন্দন-বার্তা সামলানোর ফাঁকে অধীরবাবুর মন্তব্য, ‘‘সনিয়াজি আমাকে বলেছেন, সামনে বসতে হবে। আমি কংগ্রেসের পদাতিক সৈন্য। পদাতিক সৈন্যই সব সময়ে সামনে থাকে।’’

বাংলায় মৃতপ্রায় দলকে চাঙ্গা করতে এই সিদ্ধান্ত কাজে লাগবে বলে আশাবাদী কংগ্রেস নেতারা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র এ দিনই অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন অধীরবাবুকে, বার্তা পাঠিয়েছেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। সোমেনবাবুর বক্তব্য, ‘‘অধীরকে আন্তরিক অভিনন্দন। সনিয়া ও রাহুলজি’র কাছে আমরা কৃতজ্ঞ জাতীয় স্তরে বাংলার কংগ্রেস ও তার কর্মীদের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য। আমরা ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা পেলাম।’’