সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আইনি ঢালের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানালেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। সোমবার তিনি শীর্ষ আদালতে জানান যে, রাজ্যে আইনজীবীদের ধর্মঘটের কারণে আদালতে কাজকর্ম বন্ধ। ফলে সারদা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আইনি সুরক্ষা পাওয়ার জন্য রাজীব কুমারকে যে সাত দিনের রক্ষাকবচ দিয়েছিল, সেই সময়ের মধ্যে তিনি রাজ্যের কোনও নিম্ন আদালতে আবেদন জানাতে পারেননি।

তাঁর আইনজীবী শীর্ষ আদালতে ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সঞ্জীব খন্নার অবকাশকালীন বেঞ্চে জরুরী ভিত্তিক শুনানির আবেদন জানালেও, তা শুনতে রাজি হয়নি ওই ডিভিসন বেঞ্চ। বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, যেহেতু ১৭ মে মামলার রায়দান করেছিল তিন বিচারপতির বেঞ্চ, সেক্ষেত্রে ওই রায়ের উপর শুনানি করতে পারে তিন সদস্যেরই বেঞ্চ। 

গত শুক্রবার ১৭ মে শীর্ষ আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ সারদা মামলায় রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের করা অসহযোগিতার মামলায় রাজীব কুমারকে দেওয়া আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে। এর আগে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল যে, রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করতে পারবে না সিবিআই। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা রাজীবের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাট এবং তথ্য বিকৃতির প্রমাণ দিয়ে ওই রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছিল। সেই মামলার শুনানির শেষেই তিন বিচারপতির বেঞ্চ শুক্রবার ওই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে সিবিআইকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দেয়। তবে একই সঙ্গে রক্ষা কবচের মেয়াদ সাত দিন বাড়িয়ে রাজীব কুমারকেও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ দেয়।

সোমবার সেই সময়সীমার চার দিন অতিবাহিত। মঙ্গলবারের আগে রাজ্যের কোনও আদালতে স্বাভাবিক কাজকর্ম হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সূত্রের খবর, রাজীব কুমারের আশঙ্কা সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না তাঁর। সঙ্গে রাজীব শিবিরের আশঙ্কা, রক্ষাকবচের সময়সীমা শেষ হলেই তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাতে পারে সিবিআই। তাই এ দিন আদালত খোলার সঙ্গে সঙ্গে ওই তিন বিচারপতির বেঞ্চে তিনি সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেন। আদালত সূত্রে খবর, বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে আদালতের সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে আবেদন জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করার জন্য। সেই বেঞ্চ রাজীব কুমারের আবেদন শুনবে।

এ দিন রাজীব কুমারের আবেদনের জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন খারিজ হওয়ায়, তা রাজ্যের শীর্ষ ওই পুলিশ কর্তার সমস্যা বাড়াবে বলে ধারণা আইনজ্ঞদের। কারণ বিচারপতি যে পদ্ধতিতে মামলা নথিভুক্ত করতে বলেছেন, তাতে রাজীব কুমারের জন্য বরাদ্দ রক্ষাকবচের নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরনোর আগে শুনানি হওয়ার সম্ভবনা কম বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের উপর নির্ভর না করে, মঙ্গলবার কলকাতার আইনজীবীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করলে নিম্ন আদালতই ভরসা রাজীবের। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
 

আরও পড়ুন: কলকাতায় আসছেন চন্দ্রবাবু, বিকেলেই মমতার সঙ্গে বৈঠক

আরও পড়ুন: রাজ্যে কমছে তৃণমূল, বাড়ছে বিজেপি, ইঙ্গিত সমীক্ষায়
 

(বাংলার রাজনীতি, বাংলার শিক্ষা, বাংলার অর্থনীতি, বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার স্বাস্থ্য, বাংলার আবহাওয়া -পশ্চিমবঙ্গের সব টাটকা খবরআমাদের রাজ্য বিভাগে।)