• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

এক দিনে রাজ্যে আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার, কলকাতায় মৃত ২৭

gfx
গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ

রাজ্যে রোজই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রোজই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন মাইলস্টোন। বৃহস্পতিবারও সেই একই ছবি দেখা গেল। বুধবার রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮১৬। কিন্তু এ দিন এক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ ধাপ স্পর্শ করে ফেলল। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ২ হাজার ৯৫৪ জন। এ নিয়ে রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৮৬ হাজার ৭৫৪। যদিও গত কালকের থেকে এ দিন নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা আরও বেড়েছে।

এ দিন অবশ্য রাজ্যে মৃতের সংখ্যা গত কালকের থেকে কিছুটা কম। বুধবার রাজ্যে এক দিনে মৃত্যু হয়েছিল ৬১ জনের। এ দিন মারা গিয়েছেন ৫৬ জন। এই নিয়ে রাজ্যে করোনায় মৃত্যু হল ১ হাজার ৯০২ জনের। মৃতের সংখ্যার দিক থেকে রাজ্যে প্রথম স্থানেই রয়েছে কলকাতা, তার পর উত্তর ২৪ পরগনা।

প্রতি দিন যত জন রোগীর কোভিড-টেস্ট করা হচ্ছে এবং তার মধ্যে প্রতি ১০০ জনে যত সংখ্যক রোগীর কোভিড-রিপোর্ট পজিটিভ আসছে, তাকেই বলা হয় পজিটিভিটি রেট বা সংক্রমণের হার। রাজ্য সরকারের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ২৫ হাজার ২২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে যা এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক। করোনা সংক্রমণের হার এ দিন কিছুটা স্বস্তিদায়ক। বুধবার সংক্রমণের হার খানিকটা নেমে হয়েছে ১১.৭১ শতাংশ। এ দিনও সংক্রমণের হারে সেই একই ছবি বহাল রয়েছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত কোভিড পরীক্ষা হয়েছে ১০ লক্ষ ২৮ হাজার ২৫১টি।

(গ্রাফের উপর হোভার বা টাচ করলে প্রত্যেক দিনের পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন। চলন্ত গড় কী এবং কেন তা লেখার শেষে আলাদা করে বলা হয়েছে।)

আরও পড়ুন: এক ক্লিকেই করোনা তথ্য, ‘কোভিড পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালু রাজ্যে

রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। নতুন আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃতের সংখ্যা নিয়ে আশঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে প্রতি দিন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও অবশ্য সুস্থতার হারের ছবিটা বেশ উজ্জ্বল। প্রায় ৮৭ হাজার করোনা রোগীর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬১ হাজার ২৩ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। এখনও চিকিৎসা চলছে ২৩ হাজার ৮২৯ জনের। রাজ্যে সুস্থতার হার এখন ৭০.৩৪ শতাংশ।

সংমক্রমণ এবং মৃত্যু — দুটি ক্ষেত্রেই প্রথম থেকেই ঊর্ধ্বমুখী কলকাতার গ্রাফ। বৃহস্পতিবার কলকাতায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮০ জন। রাজ্যে ৫৬ জন মৃতের মধ্যে ২৭ জনই কলকাতার বাসিন্দা। এখনও পর্যন্ত এ দিনই মহানগরীতে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই নিয়ে কলকাতায় মোট ৮৮৭ জনের মৃত্যু হল।
 

আরও পড়ুন: পাচারের আগেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জালে পড়ল পদ্মার ইলিশ

নতুন সংক্রমণের নিরিখে পিছিয়ে নেই উত্তর ২৪ পরগনাও। এ দিন সেখানে ৬০১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ দিনই মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। এই নিয়ে ওই জেলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪৩০। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এ দিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ২৬১। মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। এ ছাড়া হাওড়ায় ১৯৫, হুগলিতে ১২৫, পশ্চিম বর্ধমানে ১২০, পূর্ব মেদিনীপুরে ১৮৭, পূর্ব বর্ধমানে ৫২, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩০ জন নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। সেইসঙ্গে নদিয়ায় ৮৫, বীরভূমে ৫৯, মুর্শিদাবাদে ৪৬ এবং বাঁকুড়ায় ৩১ জনের করোনা ধরা পড়েছে এ দিন।

এ ছাড়া দক্ষিণ দিনাজপুরে ১৩১,  দার্জিলিঙে ১০২, কোচবিহারে ৮০,  জলপাইগুড়িতে ৫৮, উত্তর দিনাজপুরে ২০ জন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে দার্জিলিঙে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

(চলন্ত গড় বা মুভিং অ্যাভারেজ কী: একটি নির্দিষ্ট দিনে পাঁচ দিনের চলন্ত গড় হল— সেই দিনের সংখ্যা, তার আগের দু’দিনের সংখ্যা এবং তার পরের দু’দিনের সংখ্যার গড়। উদাহরণ হিসেবে— দৈনিক নতুন করোনা সংক্রমণের লেখচিত্রে ১৮ মে-র তথ্য দেখা যেতে পারে। সে দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ছিল ৪৯৫৬। কিন্তু  সে দিন নতুন আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৫২৬৯। তার আগের দু’দিন ছিল ৩৯৭০ এবং ৪৯৮৭। পরের দুদিনের সংখ্যা ছিল ৪৯৪৩ এবং ৫৬১১। ১৬ থেকে ২০ মে, এই পাঁচ দিনের গড় হল ৪৯৫৬, যা ১৮ মে-র চলন্ত গড়। ঠিক একই ভাবে ১৯ মে-র চলন্ত গড় হল ১৭ থেকে ২১ মে-র আক্রান্তের সংখ্যার গড়। পরিসংখ্যানবিদ্যায় দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ সহজ ভাবে বোঝার জন্য এবং স্বল্পমেয়াদি বড় বিচ্যুতি এড়াতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়)

(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও।

• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন