• জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ক্ষতি অন্তত লক্ষ কোটি টাকা: মমতা ॥ হাজার কোটির প্রতিশ্রুতি মোদীর

modi-mamata
বসিরহাটে নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার। ছবি: নির্মল বসু।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে আমপান-তাণ্ডবের চেহারা শুক্রবার সরেজমিনে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘোষণা করলেন এক হাজার কোটি টাকা অগ্রিম বরাদ্দেরও।

জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী প্রাথমিক ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন যে, বিধ্বস্ত রাজ্য পুনর্গঠনের খরচ এক লক্ষ কোটির নীচে দাঁড়াবে না। করোনা সামলাতে রাজ্য ইতিমধ্যেই ৬০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও দাবি না-করলেও মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রাপ্য ৫৩ হাজার কোটি টাকা দ্রুত মেটানোর আর্জিও জানান। লকডাউনের মধ্যে আমপানের ধাক্কায় পরিস্থিতি যে ভয়াবহ, তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বাড়তি এবং নির্দিষ্ট কোনও আশ্বাস দেননি।

বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে রাজারহাট, ডায়মন্ডহারবার, চেন্দাল, ন্যাজরা, বাসুলডাঙা, মগরাহাট, ক্যানিং, সন্দেশখালি, কালীগঞ্জ-সহ দুই ২৪ পরগনার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে বসিরহাটে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বসিরহাট কলেজে অডিটোরিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মোদী বলেন, ‘‘পুনর্গঠনের জন্য অগ্রিম হিসেবে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে।’’ 

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘করোনা মোকাবিলার মূল মন্ত্র ছিল দুই গজের দূরত্ব। আর ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার মন্ত্র ছিল দ্রুত নিরাপদ স্থানে একসঙ্গে আশ্রয় নেওয়া। এই দুই বিপরীত নীতি সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতাজি সব ধরনের চেষ্টা করেছেন। আমরাও এখনই যা করা যেত, অগ্রিম হিসেবে দিয়ে গেলাম।’’ তিনি জানান, একটি কেন্দ্রীয় দল এসে ক্ষয়ক্ষতির খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখবে।  সেই মতো সাহায্য করা হবে।

আরও পড়ুন: ঝড়ে মৃত বেড়ে ৮৬, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ত্রাণ নিয়ে অসন্তোষ বিভিন্ন জেলায়

আরও পড়ুন: হিসহিস করছিল যেন রাগী গোখরো, জমি আর চোখের নোনা জল একাকার

আর বসিরহাট থেকে কলকাতায় ফিরে বিমানবন্দরে মমতা বলেন, “আমরা দ্রুত কেন্দ্রীয় দল পাঠিয়ে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করার অনুরোধ করেছি। প্রাথমিক হিসেবে ক্ষতি ১ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি। মৃতদের পরিবার-পিছু রাজ্যের পক্ষ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা করে আমরাও দিচ্ছি।” তাঁর কথায়, “উপর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই কোনটা গ্রাম আর কোনটা জল। প্রচুর নদীবাঁধ ভেঙেছে, নতুন করে তৈরি করতে হবে। কেন্দ্রের কাছে কোনও টাকা চাইনি। খালি বলতে চেয়েছি, যা দেবে তাড়াতাড়ি দাও। প্রধানমন্ত্রী নিজের চোখে সবই দেখেছেন। কলকাতা শহরের যে ছবি পেয়েছি, তা-ও তাঁকে দেখিয়েছি।”

রাজ্যে আমপান-প্রভাব

মৃত  ৮৬

• ক্ষতিগ্রস্ত পুরসভা, পুরনিগম, ব্লক ৩৮৪

• ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ২১,৫০৭ বর্গ কিমি

• মোট আক্রান্ত মানুষ ১.৩৬ কোটি

• ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ১০.৫০ লক্ষ

• সরানো হয়েছে ৬.১৮ লক্ষ মানুষকে

• ত্রাণ শিবির ৫১৩৬

• গ্রুপ কিচেন ১৫০০

সূত্রঃ রাজ্য প্রশাসন

ঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকা যৌথ ভাবে পরিদর্শনের দিনে ছিল সহযোগিতার আবহই। শুক্রবার সকালে বিমানবন্দরে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘উনি আসছেন, আমরা কৃতজ্ঞ। কোন এলাকায় ঘোরা হবে, তার একটি মানচিত্র তৈরি হয়েছে। এখন দুই সরকারের একসঙ্গে কাজ করার সময়। কেন্দ্র আমাদের অনেক সাহায্য করতে পারে।’’ রাজ্যবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী পরে  বলেন, ‘‘বাংলার ভাইবোনেদের আশ্বস্ত করে বলছি, এই কঠিন সময়ে সারা দেশ আপনাদের পাশে রয়েছে।’’ মোদীর সঙ্গে আসা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের বক্তব্য, ‘‘দু’জন দক্ষ প্রশাসক রাজ্যের বিপদে একযোগে কাজ করছেন। আজ রাজনীতি করার দিন নয়।’’  

এ দিন সকাল সওয়া ১১টা নাগাদ তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সদলবলে ঝড়-বিধ্বস্ত এলাকা দেখতে উড়ে যান। প্রথম কপ্টারে মোদীর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। প্রধানমন্ত্রীর সচিব, চিকিৎসকেরাও প্রথম কপ্টারেই ছিলেন। দ্বিতীয় কপ্টারে ছিলেন রাজ্যের দুই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং দেবশ্রী চৌধুরী। বঙ্গের প্রাক্তন আমলা তথা প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান উপদেষ্টা ভাস্কর খুলবেও এসেছিলেন। তৃতীয় হেলিকপ্টারে রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিংহ ও এসপিজি’র কর্তারা ছিলেন।

সূত্রের খবর, এক ঘণ্টার হেলিকপ্টার সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ কথা হয়নি। দু’জনেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখতে ব্যস্ত ছিলেন। আজ, শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর আবার কাকদ্বীপ ও আশপাশের এলাকা যাওয়ার কথা। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে ওই এলাকা ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি। বৈঠক শেষে পৌনে ২টো নাগাদ তিন হেলিকপ্টার দমদমে ফিরে আসে। ২টো ২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান ভুবনেশ্বরের উদ্দেশে উড়ে যায়।  সেখানে ওড়িশার জন্য ৫০০ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি।      

লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী ও সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী এ দিন একসুরে দাবি করেন, এই ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার জন্য এক হাজার কোটি টাকা নামমাত্র। আরও অনেক গুণ বেশি সাহায্য প্রয়োজন। কংগ্রেসেরই রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যের সংযোজন, ‘‘এই হাজার কোটি টাকা কিন্তু নগদ সাহায্য নয়। পুরোটাই হিসেবের অঙ্ক। সাধারণত বাড়ি ভেঙে পড়া বা ফসলের ক্ষতির জন্য যে টাকা দেওয়া হয়, তা আবার অগ্রিম ঘোষণার অঙ্ক থেকে বাদ দেওয়া হয়।’’

(তথ্য সহায়তা: সুনন্দ ঘোষ)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন