বিরোধী দলনেতার পুজোয় রাজ্যপাল। এবং সেখানে গিয়ে আবার সীমা লঙ্ঘন না করার পরামর্শ। নিজে সীমা লঙ্ঘন করি না, অন্যদেরও অনুরোধ করছি, সীমার বাইরে যাবেন না— মহানবমীতে হুগলির শ্রীরামপুরে গিয়ে এই বার্তাই দিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়

শ্রীরামপুরের চাতরা গড়গড়ি ঘাটের পুজো গোটা জেলায় বিখ্যাত। সে পুজোর অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা চাঁপদানির কংগ্রেস বিধায়ক আবদুল মান্নান। এ দিন সকালে রাজ্যপাল সস্ত্রীক যান সে মণ্ডপে। মান্নান নিজে হাজির ছিলেন রাজ্যপালকে স্বাগত জানাতে। মণ্ডপ এবং প্রতিমা দেখার পরে মান্নানকে পাশে নিয়ে নাতিদীর্ঘ ভাষণও দেন তিনি। পুজো দেওয়ার আগে, মান্নানের বাড়িতেই প্রাতরাশ সারেন রাজ্যপাল।

রাজ্যপাল এ দিন বলেন, ‘‘সবার একটা ধর্ম রয়েছে, তা হল নিজের সীমার মধ্যে থাকা, ধর্ম হল নিজের কাজটা করা।’’ এই একই রকম মন্তব্য রাজ্যপাল এর আগেও বেশ কয়েকবার করেছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করার বিষয়ে রাজ্যপাল যে তৎপরতা দেখিয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে রাজ্যপালের সমালোচনায় সরব হয়েছিল তৃণমূল। রাজ্যপাল নিজের সীমা লঙ্ঘন করেছেন— এমন অভিযোগও তোলা শুরু হয়েছিল। তার পর থেকেই বেশ কয়েক বার প্রকাশ্যে মুখ খুলে রাজ্যপাল বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, তিনি যা করেছেন, তা নিজের এক্তিয়ার সম্পর্কে জেনেই করেছেন। অন্যেরা নিজেদের এক্তিয়ার মনে রাখতে পারছেন না— এমন বার্তাও রাজ্যপাল পরোক্ষে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

রাজ্যপাল এ দিন শ্রীরামপুরে বলেন, ‘‘আমি কখনও লক্ষ্মণরেখা পার করব না। আর আমি সবাইকে হাতজোড় করে অনুরোধ করব, পশ্চিমবঙ্গে কেউ লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করবেন না।’’

আরও পডু়ন: গুগল দেখে কাস্টমার কেয়ারে ফোন, বহু অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব লাখ লাখ টাকা!

আরও পডু়ন: সন্ত্রাস দমনে ব্যবস্থা নেয়নি পাকিস্তান, রিপোর্ট এফএটিএফ-এর, থাকতে পারে ধূসর তালিকাতেই

এই মন্তব্য করার সময় কারও নাম রাজ্যপাল করেননি ঠিকই। কিন্তু রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের ব্যাখ্যা, রাজ্যের শাসক শিবিরকেই ‘সীমার মধ্যে’ থাকার কথা বার বার মনে করিয়ে দিতে চাইছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

রাজ্যপালের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যপাল তো আগে বিজেপি করতেন। এই কথাটা বিজেপির সভাপতি এবং অন্য বিজেপি নেতাদের আগে বোঝানো উচিত তাঁর।’’