• বিমান হাজরা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে ‘ব্যবসা’র পরামর্শ মমতার

Mamata Banerjee
বাহালনগরে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার। ছবি: কৌশিক সাহা

Advertisement

কাশ্মীরের জঙ্গি হানায় নিহত পাঁচ শ্রমিকের গ্রাম বাহালনগরে পৌঁছে বুধবার ফের এক দফা ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  জানিয়ে এলেন, নিহতদের পরিবারগুলি যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সে জন্য সরকারের তরফে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সঙ্গে, বাংলা আবাস যোজনায় তাঁদের সকলের জন্য গড়ে দেওয়া হবে দু’কামরার পাকা ঘর। নিহত কামিরুদ্দিন শেখের অসুস্থ মেয়ে রহিমা খাতুনের পাশেও থাকছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর চিকিৎসার যাবতীয় দায় নিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।   

এ দিন তাঁর সফর সূচির তালিকায় বাহালনগর ছিল না। সাগরদিঘি ব্লকের ওই প্রান্তিক গ্রামের দু’ কিলোমিটার দূরে ধুমারপাহাড়েই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভার ম্যারাপ বাঁধা হয়েছিল। সভা সেরে জেলাশাসক জগদীশ প্রসাদ মিনাকে ডেকে নেন তিনি। জানতে চান, বাহালনগর ঠিক কতটা দূরে। তার পর হেলিপ্যাডের দিকে না হেঁটে গাড়ি ঘুরিয়ে তাঁর কনভয় ছোটে বাহালনগরে। 

গ্রামের অনেকেই তখনও মমতার সভাস্থল ধুমারপাহাড়ে। আহত জহিরুদ্দিনও কাঁধে ভর দিয়ে গিয়েছিলেন সভায়। মমতা গ্রামে ঢুকেই তাঁর খোঁজ করেন, ‘‘কেমন আছেন ওই আহত ছেলেটি?’’ ততক্ষণে নিহতদের সব ক’টি পরিবারকেই জড়ো করা হয়েছে কামিরুদ্দিন শেখের অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত উঠোনে। মুখ্যমন্ত্রীর  জন্য বরাদ্দ হয়েছে একটি খাটিয়া। বাকিরা তটস্থ হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে। মমতা সেখানে পৌঁছেই বাড়ির মেয়েদের কাছে ডেকে নেন— ‘‘কী হল, এমন জড়সড় হয়ে আছ কেন, কাছে এসে এখানে বসো।’’ জড়তা ভেঙে সবাই হুড়মুড়িয়ে তাঁর কাছে আসতেই একে একে পরিচয় জেনে নেন। তিনি। জেলাশাসককে ডেকে জানিয়ে দেন, রহিমার কিডনির চিকিৎসার যেন কোনও ফাঁক না থাকে। গ্রামের মেয়েদের সঙ্গে আলাপ পর্বেই ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘যে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তাতে সবাই ব্যবসা করবেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে তো!’’ ভিড়ের মাঝে ক্ষীণ গলায়  কামিরুদ্দিনের স্ত্রী রোশেনারাকে বলতে শোনা যায়, ‘‘দিদি, তিনটে মেয়ে একটা ছোট ছেলে আমার। সকলেই স্কুলে পড়ে। তারা কি ব্যবসা করতে পারবে, দোকান দেবে কী করে? একটা চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে।” মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য জানিয়ে দেন, “কই চাকরির কোনও আশ্বাস তো আমি দিইনি। সমর্থন প্রকল্প থেকে ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়া হচ্ছে, ব্যবসা করুন।’’ 

 আরও পড়ুন: বাঃ, খোঁজ-খবর রাখেন দেখছি, ভেরি গুড: মমতা

মুখ্যমন্ত্রী ফিরে যাওয়ার পরে ওই গ্রামের বাসিন্দা তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘ওঁরা ঠিকই বলেছেন, চাকরির ব্যাপারে দুই মন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারী এবং ফিরহাদ হাকিম আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের সমস্ত কাগজপত্র জোগাড় করে আমি নিজেই প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। শুভেন্দুবাবু নিজে আমাদের বলেছিলেন ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সকলে চাকরি পাবেন। তিন জনের সেচ দফতরে, বাকি তিন জনের কৃষি দফতরে। এমনটাই তো ঠিক ছিল।’’ সাগরদিঘির বিডিও শুভজিৎ কুণ্ডু অবশ্য বলছেন, “সমর্থন প্রকল্পে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলে তাঁদের আর চাকরি পাওয়ার প্রশ্ন আসে না। ওই ৫টি পরিবারই ওই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন। তবে আহত জহিরুদ্দিন সরকারের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এক সাংসদকে দেখতে বলেছেন, তার কোনও ব্যবস্থা করা যায় কিনা।’’  স্থানীয় তৃমমূল সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন জহিরুদ্দিনের পরিবারের জন্য কিছু করতে। সাধ্যমতো অবশ্যই তা করব। ”

সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘চাকরির কোনও প্রতিশ্রুতি আমি অন্তত দিইনি। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাই জানিয়ে এসেছিলাম।’’ এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন