নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) সংক্রান্ত মিছিলে হাঁটবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁর যথাযথ নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে। সেই জন্য রাস্তার দু’ধারে ব্যারিকেড তৈরি করার জন্য রীতিমতো দরপত্র আহ্বান করল রাজ্যের পূর্ত দফতর। বুধবার বিকেলেই সেই দরপত্র সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে ওই ব্যারিকেড তৈরির কাজ শেষ করতে হবে দরপত্র পাওয়া সংস্থাকে।

আজ দুপুরে সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত এনআরসি-র বিরুদ্ধে মিছিল করার কথা মমতার। তাঁর নিরাপত্তার জন্য ব্যারিকেড এবং সেই ব্যারিকেডের জন্য দরপত্রের বিষয়টিকে ঘিরে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর। বিরোধী শিবিরের অনেকের প্রশ্ন, কর্মসূচিটি রাজনৈতিক। তা হলে রাজ্য সরকারের তরফে সিঁথি থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত সাড়ে ৪.৬ কিলোমিটার পথে ব্যারিকেড তৈরি করার জন্য দরপত্রের প্রয়োজন হল কেন? রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বলতেন তাঁর সুরক্ষা জনগণ। তা হলে কোটি ক‌োটি টাকা খরচ করে তাঁরই নিরাপত্তার জন্য টেন্ডার ডাকতে হচ্ছে কেন? আসলে তিনি ভয় পাচ্ছেন। টেন্ডারের নাম করে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি করতে চাইছেন মমতা।’’ বিজেপির মতোই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কেন সরকারি টাকা ‘নয়ছয়’ হবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘‘আইনকানুনের ব্যাপার নেই। তাই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরকারের টাকা নয়ছয় করছেন। আসলে তৃণমূল আর বিজেপির নেতারা ভয় পাচ্ছেন। তাই এত বেশি পুলিশি ঘেরাটোপে থাকতে চাইছেন।’’ একই সঙ্গে নাগরিক পঞ্জির বিরুদ্ধে মিছিল নিয়ে মমতাকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি সুজন। তাঁর মতে, সারা ভারতে অনুপ্রবেশের তত্ত্ব সামনে এনেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই এনআরসি করছে বিজেপি। এই সুযোগ বিজেপিকে করে দেওয়ার জন্য মমতা কি ক্ষমাপ্রার্থী, প্রশ্ন সুজনের।

বিরোধীরা যা-ই বলুন, প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, নিরাপত্তার কারণে পূর্ত দফতরকে এই ব্যারিকেড তৈরির নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের ‘ডিরেক্টরেট অব সিকিয়োরিটি’। সেই প্রস্তাব মেনে পূর্ত দফতর ব্যারিকেডের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। পূর্ত দফতরের কলকাতা সেন্ট্রাল ডিভিশনের তরফে দরপত্র সংক্রান্ত যে-বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, সেখানে অবশ্য বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলে ব্যারিকেডের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। রাজনৈতিক মিছিল হলেও প্রশাসনের একাংশের ব্যাখ্যা, মুখ্যমন্ত্রী জ়েড প্লাস সুরক্ষা রয়েছে। সেখানে নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। তাই পূর্ত দফতর ব্যারিকেডের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে।