নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দুই জুনিয়র ডাক্তারকে মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে ধৃত পাঁচ জনকে জামিন দিল শিয়ালদহ আদালত। সোমবার বিচারক শুভদীপ রায় তাঁদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। ওই হাসপাতালের কয়েক জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এন্টালি থানায় যে-মামলা হয়েছে, তার তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে, তা-ও এ দিন সরকারি কৌঁসুলির কাছে জানতে চান বিচারক। উত্তরে সরকারি কৌঁসুলি অরূপ চক্রবর্তী জানান, ওই মামলা সম্পর্কে তাঁর কিছু জানা নেই।

এ দিন জামিন পেয়েছেন মহম্মদ শাহনওয়াজ, মহম্মদ ইয়াকুব, শেখ আনোয়ার, আদিল হারুন এবং মহম্মদ বাদল। এঁদের মধ্যে বাদলের বাড়ি এন্টালির কনভেন্ট লেনে। বাকি চার জন ট্যাংরার বিবিবাগান লেনের বাসিন্দা। তাঁদের আইনজীবীরা আদালতে জানান, অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত করেছে পুলিশ। তার পরে তাঁরা জেল-হাজতে ছিলেন। তবে নতুন তথ্যপ্রমাণ মেলেনি।

স্বাস্থ্য পরিষেবায় অচলাবস্থা অবসানে নবান্নে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। তার পরেও অভিযুক্তদের জামিনে চিকিৎসক মহলের একাংশে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তবে এ দিন আদালতে সরকারি কৌঁসুলি জামিনের বিরোধিতা করে জানান, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তা ছাড়া ওই অভিযুক্তদের জন্য গত জুনে রাজ্য জুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা সাত দিন ব্যাহত হয়েছিল। বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল দুই জুনিয়র ডাক্তারকে। অভিযুক্তেরা জামিন পেলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে।

অভিযুক্তদের কাছ থেকে কী কী উদ্ধার হয়েছে, জানতে চান বিচারক। অরূপবাবু জানান, লাঠি, বাঁশ, ইটপাথর এবং আটটি মোটরবাইক। বিচারক জানান, নতুন তথ্যপ্রমাণ না-মিললে অভিযুক্তদের ফের জেল হাজতে পাঠানো উচিত হবে না।