ওড়িশা-অন্ধ্রে প্রবল দাপটের সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় তিতলি পশ্চিমবঙ্গেও বৃষ্টি ঝরাচ্ছে ঠিকই। তবে পুজোয় তার জারিজুরি বিশেষ খাটবে না বলেই আশ্বস্ত করছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তারা জানাচ্ছে, বোধন থেকে দশমী পর্যন্ত শারদোৎসবের আকাশ ঝকঝকে থাকবে। তবে আজ, শুক্রবার ও কাল, শনিবার গাঙ্গেয় বঙ্গে কমবেশি নাকাল করবে বৃষ্টি। উপকূলীয় জেলা এবং কলকাতায় ভারী বৃষ্টিরও আশঙ্কা আছে। 

হাওয়া অফিস জানায়, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝ়ড় তিতলি বৃহস্পতিবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের পালাসা দিয়ে ঢুকেছে স্থলভূমিতে। তার পর থেকে ক্রমশই শক্তি কমছে তার। আজ, শুক্রবার ভোরে ঘূর্ণিঝড়ের তকমা খুইয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে সে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এ দিন বিকেল পর্যন্ত প্রবল ঘূর্ণিঝ়়ড়ের চেহারা নিয়ে তিতলি দক্ষিণ ওড়িশায় অবস্থান করছিল। সন্ধ্যার পরে সে গাঙ্গেয় বঙ্গের দিকে সরতে শুরু করেছে। তার প্রভাবেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রবিবার, পঞ্চমী থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হতে শুরু করবে। বোধনের সকালেই ফিরে আসবে ঝকমকে রোদের শরৎ।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টেয় গোপালপুরে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ঝ়ড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৬ কিলোমিটার। বঙ্গে ঢোকার আগে শক্তি কমে যাওয়ায় মারাত্মক ঝড়ের আশঙ্কা নেই বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। তবে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ঝো়ড়ো হাওয়া বইতে পারে। ধীবরদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা রয়েছে পর্যটকদের সমুদ্রে নামার উপরেও। রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, বিভিন্ন এলাকায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ দিন দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরেও ঝড়ের তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। তাজপুর ও শঙ্করপুরের কাছে জামড়া শ্যামপুর, জলধা, টেংরামারি গ্রামে সাগরের জল ঢুকেছে। দিঘা সৈকত ছিল সুনসান।