সারদা কাণ্ডে কি সত্যি কল রেকর্ডস বিকৃত বা নষ্ট করেছিলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এয়ারটেল ও ভোডাফোনের কাছে কল রেকর্ডস চেয়েছিল সিবিআই। কিন্তু দুই টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার সেই তথ্য দিচ্ছে না বলে সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ আনল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই-এর অভিযোগের ভিত্তিতে দুই টেলিকম সংস্থাকে নোটিস ধরাল শীর্ষ আদালত। আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে জবাব দিতে হবে দুই সংস্থাকে। নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি সিবিআই বনাম কলকাতা পুলিশ সংঘাত চরমে ওঠে। ওই দিন কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়ির সামনে পৌঁছন কয়েক জন সিবিআই অফিসার। সিবিআই-এর অভিযোগ, তার পরেই কলকাতা পুলিশ তাঁদের জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে শেক্সপিয়র সরণী থানায় নিয়ে যায়। নিজাম প্যালেস এবং সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই দফতরে পৌঁছে যায় রাজ্য পুলিশ। পরে অবশ্য আটক সিবিআই অফিসারদের ছেড়ে দেওয়া হয়। রাজ্য পুলিশও সরে যায় দুই দফতর থেকে। কিন্তু সেই ঘটনার নিয়ে সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসে পড়েন।

এই ঘটনার পর নতুন করে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। সেই মামলায় শীর্ষ আদালতের নির্দেশে শিলংয়ে নিয়ে গিয়ে রাজীব কুমারকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী অফিসাররা। তাতে নতুন তথ্য উঠে আসে এবং তদন্ত রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দেয় সিবিআই। দু’দিন আগেই শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল ওই জিজ্ঞাসাবাদে  ‘খুব গুরুতর’ তথ্য পেয়েছে সিবিআই।

আরও পড়ুন: গাড়ি থেকে নামতেই স্লোগান- লাল লাল লাল সেলাম! শুনে থ ভারতী

আরও পডু়ন: আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ, রমন সিংহের জামাইয়ের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ

এর মধ্যেই শুক্রবার প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি দীপক গুপ্ত এবং বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার বেঞ্চে এই মামলা শুনানির জন্য ওঠে। তাতে সিবিআই জানায়, এয়ারটেল ও ভোডাফোনের কাছে কল রেকর্ডস ও অন্যান্য তথ্য চাইলেও কোনও সংস্থাই সেই তথ্য দিচ্ছে না। এর পরই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ দুই সংস্থাকে নির্দেশ দেয়, আগামী ৮ এপ্রিলের মধ্যে লিখিত ভাবে জবাব দিতে হবে এয়ারটেল ও ভোডাফোনকে। 

কিন্তু কেন সিবিআই কল রেকর্ডস চাইছে? সারদা চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর রাজ্য সরকার একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ অফিসারদের নিয়ে সিট গঠিত হয়। ওই সময় রাজীব কুমার ছিলেন বিধাননগরের কমিশনার। সিটের নেতৃত্বে ছিলেন তিনিই। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। তদন্তে নেমে সিটের হাতে যে সব তথ্য প্রমাণ এসেছিল, সেগুলি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেন সিটের অফিসাররা। কিন্তু সিবিআই সূত্রে অভিযোগ করা হয়, সিটের তদন্তের সময়ই বহু ইলেক্ট্রনিক তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে দিয়েছিলেন রাজীব কুমার। তার মধ্যে অন্যতম ছিল মোবাইল ফোনের কল রেকর্ডস।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

কিন্তু মোবাইল ফোনের হিস্ট্রি থেকে কল রেকর্ডস মুছে ফেললেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা সার্ভিস প্রোভাইডারের সার্ভার থেকে উদ্ধার করা সম্ভব। সেই কারণেই এয়ারটেল এবং ভোডাফোনের একাধিক নম্বরের ওই সময়ের কল রেকর্ডগুলি এয়ারটেল এবং ভোডাফোনের কাছে চেয়েছিল সিবিআই। সেই তথ্য দিতেই দুই সংস্থা টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দাদের।