কলকাতায় ছাত্র সমাবেশে গৌড়বঙ্গের তিন জেলা নেতাদের জমায়েত করানোর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। এমনকি, সমাবেশের দিন জেলা ভিত্তিক ভিডিয়োগ্রাফিও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার দুপুরে মালদহে গৌড়বঙ্গের তিন জেলার নেতৃত্বদের নিয়ে বৈঠক করেন তৃণাঙ্কুর। তিনি বলেন, “জেলা নেতৃত্বদের কলকাতার সমাবেশে দলীয় কর্মীদের জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোন জেলার কত কর্মী কলকাতায় গিয়েছে তা ভিডিয়োগ্রাফি করা হবে।” প্রতিষ্ঠা দিবস থেকে কলেজ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
 
আগামী ২৮ অগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে কলকাতায় সমাবেশ। তা সফল করতে এ দিন মালদহ প্রস্তুতি সভা করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। এ দিনের সভায় মালদহ ছাড়াও হাজির ছিলেন উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের নেতৃ্ত্বেরা। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ থেকে তিন হাজার, দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে দেড় হাজার এবং উত্তর দিনাজপুর থেকে দু’হাজার কর্মী কলকাতার সমাবেশে জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ দিন তিন জেলার ব্লকভিত্তিক কত কর্মী সমাবেশে যাবেন, তার তালিকা তৈরি করা হয়। একই সঙ্গে এ দিনের সভা থেকে তিন জেলার জন্য একটি করে কমিটি গড়ে দেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি। 
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টিকিট কেটে কর্মীদের কলকাতা যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্য নেতৃত্ব। তাই ব্লকভিত্তিক ৫০ থেকে ৬০টি করে ট্রেনের সংরক্ষিত টিকিট কাটা হয়েছে। এমনকি, প্রয়োজনে দলীয় কর্মীদের ২৬ অগস্টেই কলকাতা যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তৃণাঙ্কুর বলেন, “কলকাতা পৌঁছতে যাতে কর্মীদের অসুবিধে না হয় তার জন্য আগাম ব্যবস্থা করা হবে। সমাবেশের দু’দিন আগে থেকেই কর্মীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।” 

এ দিনের সভায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পাশাপাশি হাজির ছিলেন মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল, যুব তৃণমূলের সভাপতি অম্লান ভাদুড়ি, হেমন্ত শর্মা সহ একাধিক নেতা। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতৃত্বের দাবি, আগামী  দিনে কলেজ নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনে দলের শক্তি যাচাই করতে কলকাতার সমাবেশকে ‘পাখির চোখ’ করা হয়েছে। তাই সমাবেশে গত, বছরের তৃলনায় বাড়তি সংখ্যক কর্মীদের জেলা নেতৃত্বদের নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মালদহের জেলা সভাপতি প্রসূন রায় বলেন, “প্রতিটি কলেজ স্তরে আমাদের বৈঠক হয়েছে। প্রতিটি কলেজ থেকে নেতারা কমপক্ষে দু’শো জন করে কর্মীদের নিয়ে কলকাতায় পৌঁছবেন। আশা করছি, তিন হাজারেও বেশি সংখ্যক কর্মী মালদহ থেকে কলকাতায় যাবে।”