বলরামপুরের বিজেপি কর্মী ত্রিলোচন মাহাতোর মৃত্যুর সিবিআই তদন্তে চেয়ে পরিবার আগের দিন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। পরের দিন মঙ্গলবার তাঁদের বাড়িতে গেলেন বিজেপির ওবিসি মোর্চার সভাপতি তথা উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী দারা সিংহ চৌহান। ত্রিলোচনের মতোই তিনি দলের অন্য দুই কর্মী মৃত দুলাল কুমার ও জগন্নাথ টুডুর বাড়িতে গিয়ে পরিজনদের সমবেদনা জানালেন। পরে বরাবাজারে গিয়ে সভাও করেন তিনি।

বিজেপি নেতৃত্ব বলরামপুরের ওই তিন কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলে সরব হয়েছেন। তিনটি ক্ষেত্রেই সিবিআই তদন্তের দাবিও করা হচ্ছে। এ মাসের শেষের দিকে পুরুলিয়ায় আসার কথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের। তার আগে এ দিন বলরামপুরে আসেন দারা সিংহ। তিনি প্রথমে ডাভায় দুলাল কুমারের বাড়িতে যান। সেখান থেকে আমটাঁড়ে জগন্নাথ টুডুর বাড়ি হয়ে সুপুরডিতে ত্রিলোচন মাহাতোর পরিবারের সঙ্গে তিনি দেখা করেন।

দল সূত্রে খবর, মৃতদের পরিবার সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন তাঁর কাছে। দল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে তাঁদের আশ্বাস দেন দারা সিংহ। ত্রিলোচনের দাদা বিবেকানন্দ মাহাতো বলেন, ‘‘মন্ত্রী বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা তাঁকে জানিয়েছি, দোষী কারা তা এখনও পুলিশ জানাতে পারেনি। যে ভাবেই হোক দোষীদের কড়া শাস্তি দিতে হবে বলে আমরা তাঁর কাছে দাবি জানিয়েছি।’’ 

পরে বরাবাজারের ইঁদটাড় ময়দানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘‘বিজেপির দুই যুব কর্মীর বলিদান ব্যর্থ হবে না। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বিজেপির আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা।’’ আগামী লোকসভা ভোটে তিনি বিজেপির হাত শক্ত করার আহ্বান জানান।

তৃণমূলের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি রথীন্দ্রনাথ মাহাতো বিজেপির মন্ত্রীর এই অভিযোগ খারিজ করে পাল্টা দাবি করেন, ‘‘এটা উত্তরপ্রদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গ। এটা সম্ভবত তিনি ভুলে গিয়েছেন। এখানে গণতন্ত্র রয়েছে বলে ওরা মনোনয়ন দাখিল করেছেন এবং কয়েকটি আসনে জিতেছেন। সন্ত্রাস থাকলে এটা সম্ভব হত না।’’  

দলের জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক বিবেক রঙ্গা বলেন, ‘‘বরাবাজার-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীরা কী অবস্থায় রয়েছেন, সব তাঁকে জানানো হয়েছে।’’