২১ শতকের দুনিয়া ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) নির্ভর। এক নিমেষে আমজনতার যে কোনও প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিচ্ছে এই প্রযুক্তি। করছে বহু সমস্যার সমাধান। কিন্তু, সমস্যা হল সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিটি চালাতে প্রতি দিন খরচ হচ্ছে গ্যালন গ্যালন জল। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, বর্তমানে এআইয়ের জন্য দিনে খরচ হচ্ছে প্রায় ২০০ কোটি লিটার জল। অঙ্কটা নেহাত কম নয়। একটু অন্য ভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে এই পরিমাণ জল দিয়ে দিনে অন্তত এক কোটি মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে পারবে যে কোনও দেশের সরকার। সোজা কথায় কোনও ছোট রাষ্ট্রের পুরো জনসংখ্যাকে খাবার জল সরবরাহের পুরোটাই একা শুষে নিচ্ছে কৃত্রিম মেধা।
এআইয়ের জন্য কেন এতটা জল খরচ হচ্ছে, সেটা এ বার বুঝে নেওয়া যাক। যে কোনও চ্যাটবটকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে, তৎক্ষণাৎ ৪-৫ লাইনে তার জবাব দিয়ে দেয় ওই কৃত্রিম মেধা। এর জন্য খরচ হয় ৫০০ থেকে এক লিটার জল। প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নটির উত্তর রয়েছে এআই ডেটা সেন্টারে। সেটা খুঁজে এনে গ্রাহকের সামনে হাজির করে কৃত্রিম মেধা।
এ-হেন ডেটা সেন্টার বা তথ্যভান্ডারগুলিকে সচল রাখতে প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ জলের। কারণ, সেখানে সর্ব ক্ষণই প্রসেসিং চলে উচ্চ শক্তির কম্পিউটারের। তার তাই সেগুলিকে ঠান্ডা রাখার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এর জেরে এআই ডেটা সেন্টারগুলিতে প্রতি দিনই জোগান দিতে হচ্ছে গ্যালন গ্যালন জলের।
বিশ্লেষকদের একাংশের আবার দাবি, কৃত্রিম মেধার জন্য জলের এই হিসাব পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ, এআই প্রযুক্তির জন্য যে চিপ বা পরিকাঠামোর প্রয়োজন হয়, সেগুলি নির্মাণেও খরচ হয় বিপুল পরিমাণে জল। ফলে সব মিলিয়ে এর অঙ্কটা আকাশছোঁয়া বলেই মনে করেন তাঁরা।
অন্য দিকে মানুষের মস্তিষ্ক জটিল সমস্যার সমাধান করতে যৎসামান্য জল খরচ করে থাকে। ফলে এআইয়ের চাহিদা যত বাড়বে ততই বেশি পরিমাণে খরচ হবে জল, বিদ্যুৎ এবং বিরল খনিজ। সেটা ভবিষ্যতে অন্য কোনও সঙ্কট ডেকে আনবে না তো? এখন থেকেই উঠছে সেই প্রশ্ন।