ভারতে দিন দিন বাড়ছে অনলাইন ব্যাঙ্ক প্রতারণা। এর একটা চেনা ছক রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সাইবার অপরাধীরা সাধারণত মোবাইল ফোনে একটি লিঙ্ক পাঠিয়ে থাকে। গ্রাহক তাতে আঙুল ছোঁয়ালেই কেল্লাফতে! মুহূর্তে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সমস্ত টাকা হাতিয়ে নিয়ে গায়েব হচ্ছে হ্যাকারদের গ্যাং।
এই প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে দেশ জুড়ে প্রায়ই প্রচার চালিয়ে থাকে ব্যাঙ্ক ও পুলিশ-প্রশাসন। তার পরেও সাইবার অপরাধীদের বাড়বাড়ন্ত যে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে এমনটা নয়। অন্য দিকে অসচেতনতা নিয়ে গ্রাহকদের একটা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সেটা হল, ব্যাঙ্ক কখনও কখনও নানা ইস্যুতে লিঙ্ক পাঠিয়ে থাকে। তা হলে কী ভাবে চেনা যাবে হ্যাকারদের ভুয়ো ওয়েবসাইট?
গ্রাহকদের এই যুক্তি অমূলক নয়। আর তাই ভুয়ো ওয়েবসাইট চিহ্নিতকরণের একটা সহজ সমাধান খুঁজে বার করেছে সরকার। প্রশাসন জানিয়েছে, এখন থেকে সমস্ত সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাঙ্কের ওয়েবসাইটে প্রথমে থাকবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কটির নাম। তার পর ডট ব্যাঙ্ক ও ডট ইন শব্দ দু’টি ব্যবহার করতে হবে তাদের। রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি, দু’ধরনের ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই পদক্ষেপ অনেকটাই কমাবে হ্যাকিংয়ের উপদ্রব। নতুন নিয়মের জেরে এক বার দেখলেই ভুয়ো ওয়েবসাইটের লিঙ্ক চিহ্নিত করতে পারবেন গ্রাহক। একটা উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
ধরা যাক, কোনও ব্যক্তি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (এসবিআই) লিঙ্ক পেলেন। তাতে শুরুতেই থাকবে এসবিআই ডট ব্যাঙ্ক ডট ইন শব্দবন্ধ। উল্লেখ্য, সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্ত কোনও ব্যাঙ্ক ছাড়া কেউ ডট ব্যাঙ্ক ডট ইন শব্দ দু’টি ব্যবহার করতে পারবেন না। ফলে গ্রাহকদের পক্ষে ভুয়ো ওয়েবসাইটের চিহ্নিতকরণ যে অনেকটাই সহজ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।