কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) নতুন প্রযুক্তি বাজারে আসতে না আসতেই হইচই। শেয়ারের দুনিয়ায় নিমেষে নামল ধস। ফলে রক্তাক্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট। কয়েক ঘণ্টায় সেখান থেকে উবে যায় ২৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এর জেরে মাথায় হাত পড়ে লগ্নিকারীদের। নতুন প্রযুক্তি কি আগামী দিনেও থাবা বসাবে স্টকে বিনিয়োগকারীদের মুনাফায়? এই প্রশ্নে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।
সম্প্রতি কোয়ার্ক নামের একটি এআই টুল বাজারে আনে মার্কিন টেক জায়ান্ট এনথ্রপিক। সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম মেধাটি কিন্তু কোনও চ্যাটবট নয়। উল্টে নিজের থেকে একাধিক কাজ করতে পারে কোয়ার্ক। এর মধ্যে ফাইল পড়া, তথ্যসমৃদ্ধ রিপোর্ট তৈরি করা এবং আইনি চুক্তি নতুন করে খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। কোয়ার্কের এ-হেন কেরামতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশ জুড়ে পড়ে যায় শোরগোল।
এত দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে এই কাজগুলি করত কোনও না কোনও আইনি সংস্থা (লিগাল ফার্ম)। তার জন্য অবশ্য বিভিন্ন সফ্টঅয়্যার কোম্পানির সাহায্য নিত তারা। এনথ্রপিকের নতুন কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি বর্তমানে সেটাই নিমেষে করে দিতে পারছে। বিষয়টি নজরে পড়তেই আইনি এবং সফ্টঅয়্যার সংস্থাগুলির স্টকের সূচক হু-হু করে নামতে শুরু করে। ফলে মোটা লোকসানের মুখে পড়েন লগ্নিকারীরা।
আমেরিকার গণমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এনথ্রপিক নতুন এআই টুল বাজারে আনতেই খাদে পড়ে লিগাল জ়ুম, অ্যাডোবি এবং সেলস ফোর্স নামের সংস্থাগুলির শেয়ার। তবে এই পরিস্থিতিতে আশার কথা শুনিয়েছে গুগ্ল এবং এনভিডিয়ার মতো একাধিক মার্কিন টেক জায়ান্ট সংস্থা। তাদের দাবি, এআই কোনও নতুন আইন শেখায়নি। ফলে লগ্নিকারীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
আরও পড়ুন:
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের কথায়, কৃত্রিম মেধা কোনও আইনি বা যুক্তিগ্রাহ্য মস্তিষ্ক নয়। নথিপত্র সংক্রান্ত কিছু কাজ একটু গুছিয়ে করতে পারে সেটি। এআই আগেও এই ধরনের কাজ করেছে, যাকে নতুন আঙ্গিকে আরও কিছুটা শক্তিশালী রূপে প্রকাশ্যে এনেছে এনথ্রপিক। তবে তাদের তৈরি প্রযুক্তি কর্মসংস্থানের বাজারে যে ভয় ধরাচ্ছে, সেটা বলাই বাহুল্য।
কৃত্রিম মেধা আগে ছিল একটা প্ল্যাটফর্ম। তার উপর ভর করে বিভিন্ন ধরনের কাজ করত আইনি সংস্থা। এখন সেখানে সরাসরি তাদের প্রতিযোগী হয়ে উঠছে এনথ্রপিকের এআই। নিজের থেকে নথি তৈরি করতে পারছে তারা। ফলে আগামী দিনে বিভিন্ন সংস্থায় বাড়বে ছাঁটাই। বন্ধও হতে পারে একাধিক কোম্পানি। তবে বাজারে যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা আছে, তারা টিকে থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।