Advertisement
E-Paper

নৈনিতাল না ভীমতাল, সৌন্দর্যে টেক্কা দেবে কে? রাত্রিযাপনের জন্য বেছে নেবেন কোন শহর?

প্রথম বার কুমায়ুন হিমালয় দেখতে যাবেন। নৈনিতাল না ভীমতাল, দু’দিন থেকে ঘোরার জন্য বেছে নেবেন কোন শহর?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৯
ভীমতাল না নৈনতাল শৈলশহর হিসাবে পর্যটক পছন্দে এগিয়ে কে?

ভীমতাল না নৈনতাল শৈলশহর হিসাবে পর্যটক পছন্দে এগিয়ে কে? ছবি: সংগৃহীত।

হ্রদকে কেন্দ্র করেই শৈল শহরের নাম। একটি নৈনিতাল, অন্যটি ভীমতাল। উত্তরাখণ্ডের দুই শহরের দূরত্ব ঘণ্টা দেড়েকের। কিন্তু হ্রদকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দুই শহরের পরিবেশ একেবারেই আলাদা। আগামী গন্তব্য যদি কুমায়ুন হিমালয় হয়, রাত্রিযাপনের জন্য বেছে নেবেন কোন জায়গা, নৈনিতাল না কি ভীমতাল?

‘তাল’ শব্দের অর্থ হ্রদ। নৈনিতালের নাম শোনেননি এমন মানুষ বোধহয় কমই আছেন। পর্যটন পিপাসুদের কাছে এই শহর বড় প্রিয়। শহরের অনেকটা জুড়ে বিস্তৃত পাহাড় ঘেরা নৈনি লেক। পাহাড় বেড় দিয়েছে সেই জলাশয়কে। হ্রদের পাশেই পিচ বাঁধানো রাস্তা। পাড় বরাবর সুসজ্জিত ফুটপাথ। রয়েছে গাছগাছালি, কাঠের বেঞ্চ। প্রাণচঞ্চল শহরে পিচ বাঁধানো রাস্তার একপাশ দিয়ে ধাপে ধাপে উঠেছে হোটেল-রিসর্ট। এই শহরের বেশিরভাগ প্রান্ত থেকেই দৃশ্যমান হ্রদ। তার বুকে ভেসে চলেছে দাঁড় টানা নৌকা। রয়েছে প্যাডেল বোটও।

পাহাড়ের মাথা বা রোপওয়ে থেকে এমনই দেখায় নৈনিতাল।

পাহাড়ের মাথা বা রোপওয়ে থেকে এমনই দেখায় নৈনিতাল। ছবি:সংগৃহীত।

ঠিক যেন ছবির মতো এক জায়গা। রাস্তার পাশে শীতের পসরা নিয়ে হকারের দল ডাকাডাকি করছেন ক্রেতাদের। এই শহর যেন সম্প্রীতির মেলবন্ধনের গল্প বলে। হ্রদের পাশেই রয়েছে নৈনিমাতার মন্দির। ওই একই চত্বরে একটু হাঁটলেই মিলবে গুরুদ্বার, গির্জা এবং মসজ়িদ।

খানিক গেলেই পাওয়া যাবে রোপওয়ে। রোপওয়ে চেপে নৈনি হ্রদ দেখা যায় পাখির চোখে। ঘুরে নিতে পারেন টিফিন টপ, ইকো কেভ গার্ডেন। নৈনিতাল এসে হ্রদের বুকে ভেসে পড়ার অভিজ্ঞতাই আলাদা।

নৈনিতালকে কি টেক্কা দিতে পারে ভীমতাল?

ভীমতাল বা হ্রদটি আয়তনে ছোট হলেও, জায়গাটি সুন্দর।

ভীমতাল বা হ্রদটি আয়তনে ছোট হলেও, জায়গাটি সুন্দর। ছবি:সংগৃহীত।

জনপ্রিয়তার নিরিখে ভীমতালকে টেক্কা দিতে পারে নৈনিতাল। কিন্তু তা সত্ত্বেও নৈনিতাল থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের ভীমতালই এখন পর্যটকের আকর্ষণের নতুন কেন্দ্র। ভীমতালের নামেই শহর। আয়তনের বিচারে ভীমতাল নৈনিতালের চেয়ে ছোট। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভাবার একাধিক কারণ রয়েছে, কেন ভ্রমণের তালিকায় দু’টো দিন থাকার জন্য ভীমতাল বেছে নেওয়া যায়।

নৈনিতালের মতোই বিলাসবহুল হোটেল, হোম-স্টে গড়ে উঠেছে এখানে। রয়েছে ক্যাফে, মন্দিরও। তবে ভীমতাল ইদানীং পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার কারণ হল শহরের পরিবেশ। নৈনিতাল জনপ্রিয় বলেই সেখানে ভিড়ভাট্টা অনেক বেশি। ব্যস্ত শহরের ব্যস্ততাও বেশি। কিন্তু ভীমতালে এখনও রয়ে গিয়েছে নিরালা পরিবেশ। শহুরে ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে যাঁদের খানিক নির্জনতা পছন্দ, তাঁদের জন্য এই জায়গা সেরা। এখানকার বড় বড় রিসর্ট-হোটেলগুলির চত্বর জুড়ে রয়েছে বাগিচা, গাছপালা। কোথাও হোটেলে, কোথাও আবার উন্মুক্ত ছাদে, একবারে হ্রদের গায়েই খাওয়ার আয়োজন। খানিক হাঁটলে মিলবে স্থানীয় রেস্তরাঁ, রয়েছে অসংখ্য ক্যাফেটেরিয়া। খাঁটি কুমায়নী খাবারের স্বাদ পাবেন এখানকার রেস্তরাঁগুলিতে।

তফাত কোথায়?

নৈনিতাল, ভীমতাল দুই শহরেরই সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু হ্রদ। দুই জায়গাতেই হ্রদের বুকে নৌ বিহারের আয়োজন রয়েছে। আবহাওয়াতেও তেমন তফাত নেই। গরমে নৈনিতাল, ভীমতাল মনোরম। শীতে জাঁকিয়ে ঠান্ডা আর বর্ষায় শৈলশহরের পাহাড় হয়ে ওঠে ঘন সবুজ। তবে তফাত হল, নৈনিতাল এবং ভীমতালের জীবনযাপনের তফাত। গতিময়তার হিসাবে নৈনিতাল এগিয়ে। ভীমতাল খানিক শান্ত। সপ্তাহশেষে নৈনিতালে পর্যটকদের চাপ থাকে অনেক বেশি। তুলনায় অনেক শান্তিপূর্ণ ভাবে ঘোরা এবং থাকা সম্ভব ভীমতালে।

ভীমতালের দর্শনীয় স্থান

হ্রদের ধারে অনেক পুরনো মহেশ্বর মন্দির রয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত, মহাভারতের চরিত্র ভীমের নামানুসারে এই হ্রদ। তিনি নাকি মহেশ্বরের পুজো করেছিলেন এখানে। ভীমতাল থেকে ঘুরতে হলে গাড়ি ভাড়া করাই ভাল। এখানে দেখে নিতে পারেন কমল তাল (পদ্মফুলের হ্রদ), নওকুচি তাল, হনুমান গড়ি, মিউজ়িয়াম, বাটারফ্লাই রিসার্চ সেন্টার। পক্ষী পর্যবেক্ষণেরও সুযোগ মেলে এখানে।

চাইলে ভীমতালে থেকেও নৈনিতাল ঘোরা যায়। আবার নৈনিতালে থেকেও ভীমতাল ঘুরে আসা যায়।

অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস

পর্যটনের প্রসারে দুই শহরেই একাধিক অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস চালু হয়েছে। জ়িপ লাইনিং, হাইকিং, ট্রেকিং, পাহাড় চড়ার সুযোগ রয়েছে নৈনিতালে।

ভীমতাল সংলগ্ন শহরেও জ়িপ লাইংনিং, কায়াকিং, বোটিং-সহ একাধিক অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের সুযোগ আছে।

Travel Tips Nainital bhimtal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy