দত্তক নেওয়ার সময়ে সন্তানের বয়স কত ছিল, তার উপরে আর নির্ভর করবে না মাতৃত্বকালীন ছুটি। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সামাজিক সুরক্ষা আইনের যে ধারায় মাতৃত্বকালীন ছুটির সঙ্গে পালিত সন্তানের বয়সকে জুড়ে দেওয়া ছিল, সেই ধারাটিও রদ করেছে শীর্ষ আদালত।
সামাজিক সুরক্ষা আইন, ২০২০-এর ৬০(৪) ধারায় এই সংক্রান্ত বিষয়ে উল্লেখ ছিল। সেখানে বলা ছিল, আইনগত ভাবে দত্তক নেওয়ার সময়ে সন্তানের বয়স তিন মাসের কম হলে, তবেই সেই মহিলা মাতৃত্বকালীন ছুটির যোগ্য। আইনের এই ধারাটিকে রদ করেছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পর্দীওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, পালিত সন্তানদের মায়েদেরও ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে দত্তক নেওয়ার সময়ে সন্তানের বয়স কত ছিল, তার উপর মাতৃত্বকালীন ছুটি নির্ভর করবে না।
সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আইনের ওই ধারাটি সংবিধানের ১৪ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। বস্তুত, সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমান আইন থাকবে। প্রত্যেকে আইনে সমান সুরক্ষা পাবেন। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইনে প্রতিষ্ঠিত কোনও পদ্ধতি ছাড়া কাউকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আদালত মনে করছে, সামাজিক সুরক্ষা আইনের এই ধারাটি সংবিধানের ওই দুই অনুচ্ছেদকে লঙ্ঘন করছে।
আরও পড়ুন:
আদালত আরও জানিয়েছে, আইনের ওই ধারাটির কোনও যৌক্তিকতা নেই। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, দত্তক নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে একই রকম মাতৃস্নেহের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে বয়সের ভিত্তিতে ভাগাভাগি কোনও যৌক্তিক বিভাজন নয়। দত্তক নেওয়ার সময়ে শিশুর বয়স তিন মাসের কম হোক বা বেশি, তাতে মহিলার মাতৃত্বকালীন দায়িত্ব একই থাকে।
আইনের এই ধারাটির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন আইনজীবী হামসানন্দিনী নন্দুরি। ওই মামলার প্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, পালিত সন্তানের বয়স মাতৃত্বকালীন ছুটির ক্ষেত্রে কোনও বাধা হতে পারে না।