সমাজমাধ্যমে মেয়রের স্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা। রেগেমেগে শহরের গোটা পুলিশ বিভাগকেই বরখাস্ত করে বসলেন মেয়র। ১০ জন পুলিশকর্মীকে একসঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পর বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে ৬ মে আমেরিকার জর্জিয়ার একটি ছোট্ট শহর কোহুটার মেয়র তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে এই সিদ্ধান্ত নেন। স্ত্রীকে নিয়ে আলোচনার জের কয়েক সপ্তাহ ধরে চলার পর উত্তেজনার বশে তিনি এই কাজ করে বসেন।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কোহুটা শহরের মেয়র রন শিনিক দফতরে বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেন। দফতরের দরজায় লাগানো একটি সাইনবোর্ডে ঘোষণা করা হয় দফতর বিলুপ্ত করা হয়েছে। সমস্ত কর্মীরা বরখাস্ত। আইনকানুন নিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে সেই বিজ্ঞপ্তিতে। এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত মাসে। রনের স্ত্রী পাম শিনিক মেয়রের অফিসের প্রাক্তন ক্লার্ক। বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন যে, চাকরিচ্যুত হওয়া সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর। অফিসে যথাযথ পরিবেশ বজায় না রাখার অভিযোগে গত বছর পামকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এক হাজারেরও কম জনসংখ্যার এই শহরটিতে তাঁকে ঘিরে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। পুলিশ কর্মকর্তারা ফেসবুকের মতো সমাজমাধ্যমে পামকে নিয়ে সমালোচনামূলক বা অনুপযুক্ত মন্তব্য করার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর, মেয়র পুলিশপ্রধান গ্রেগ ফাউলার এবং শহরের অ্যাটর্নি ব্রায়ান রেবার্নের সঙ্গে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন যে, খোলামেলা আলোচনা এবং মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। তবে, এর ঠিক এক সপ্তাহ পরেই পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ আধিকারিকদের বিভাগের সমস্ত সরঞ্জাম ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হুইটফিল্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ছোট শহরটির পুলিশি ব্যবস্থার দায়িত্ব নিতে চলেছে। বরখাস্ত হওয়া পুলিশকর্তাদের মধ্যে এক জন সার্জেন্ট জেরেমি মে। তিনি সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলে জানিয়েছেন, এই সব কিছুই মেয়রের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার ফল। শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েক জন স্বচ্ছতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ, তাঁদের প্রত্যেকেই চাকরি হারিয়েছেন।