Advertisement
E-Paper

লাইভস্ট্রিমে চুম্বনরত অবস্থায় ধরা পড়েন যুগল, প্রকাশ্যে ২১ বার বেত মেরে ‘শিক্ষা’ দিল ইন্দোনেশিয়ার শরিয়া আইন!

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের বান্দা আচেহের বুস্তানুসসালাতিন সিটি পার্কে ২২ বছর বয়সি এক তরুণ এবং ২৫ বছর বয়সি এক তরুণীকে প্রকাশ্যে ২১ বার বেত দিয়ে আঘাত করা হয়। অভিযোগ, তাঁরা অবিবাহিত অবস্থায় একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আচরণ করেছিলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১১:২৮

ছবি: রয়টার্স।

‘প্রকাশ্যে’ চুমু খাওয়ার শাস্তি প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত! বিয়ে না করে একে অপরকে চুম্বন করার ‘অপরাধে’ এক যুগলেক প্রকাশ্যে বেত মারা হল ইন্দোনেশিয়ায়। ফেব্রুয়ারি মাসে সমাজমাধ্যম টিকটকে লাইভস্ট্রিম করার সময় গাড়িতে বসে একে অপরকে চুম্বন করেছিলেন তরুণ ও তরুণী। সেই লাইভস্ট্রিম ভাইরাল হতেই পুলিশে অভিযোগ জমা পড়ে। এর পরই তাঁদের জনসমক্ষে বেত মারার আদেশ জারি করা হয়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের বান্দা আচেহের বুস্তানুসসালাতিন সিটি পার্কে ২২ বছর বয়সি এক তরুণ এবং ২৫ বছর বয়সি এক তরুণীকে প্রকাশ্যে ২১ বার বেত দিয়ে আঘাত করা হয়। অভিযোগ, তাঁরা অবিবাহিত অবস্থায় একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আচরণ করেছিলেন। আচেহের শরিয়া আইনে এটিকে নিয়ম লঙ্ঘন হিসাবে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে এই যুগলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। চার মাস কারাবাস-সহ তাঁদের বেত মারার শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রায় ১০০ জন মানুষ এই শাস্তি প্রত্যক্ষ করেন। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে কয়েক জন ওই যুগলকে আরও জোরে বেত্রাঘাত করার দাবিও জানান। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই মানবাধিকার সংগঠনগুলি তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে।

অবিবাহিত এই যুগলের টিকটক লাইভস্ট্রিম ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারাই শরিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। আচেহ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ যেখানে শরিয়া আইনের বলবৎ আছে। জুয়া, ব্যভিচার, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, বিবাহের বাইরে নির্দিষ্ট কিছু ঘনিষ্ঠতা, নির্দিষ্ট কিছু সমকামিতা এবং মদ্যপান, মদ তৈরি, বিতরণের মতো কাজ করলে কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়। ব্যভিচার ও সমকামিতার মতো নৈতিক অপরাধের জন্য আইনে ১০০টি পর্যন্ত বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে। জুয়া ও মদ্যপানের জন্য, এবং আঁটোসাঁটো পোশাক পরা নারী বা শুক্রবারের নামাজ বাদ দেওয়া পুরুষদের শাস্তি দিতেও বেত্রাঘাতের চল আছে।

এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সদস্যেরা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সহ-আঞ্চলিক পরিচালক মনৎসে ফেরেরের বলেন ‘‘শুধুমাত্র চুম্বনের জন্য তরণ-তরুণীকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা মানবাধিকারের বৈষম্যের এক ভয়াবহ উদাহরণ। ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে ইসলামি ফৌজদারি আইনের অধীনে অনুমোদিত আইন মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক নির্মম স্মারক।”

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy