একটুও অনুতপ্ত নন প্রেমিকের সহায়তায় বাগ্দত্ত কেতন অগ্রবালকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার সিয়া গোয়ল! পুলিশি প্রহরায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় সিয়ার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর তেমনটাই মনে করছেন অনেকে। বৃহস্পতিবার তদন্তের প্রয়োজনে সিয়াকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পুলিশি প্রহরায় বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন সিয়া। তাঁর মুখ ওড়নায় ঢাকা। এর মধ্যেই বাইরে অপেক্ষমাণ সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের উদ্দেশে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় তাঁকে। সাংবাদিকদের মধ্যমা দেখান সিয়া। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
কয়েক সেকেন্ডের সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পুণের মার্কেট ইয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছেন সিয়া। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ তাঁকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। কালো টি-শার্ট পরা এবং প্রিন্টেড স্কার্ফ দিয়ে মুখ ঢাকা অবস্থায় সিয়াকে সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের দিকে তাকিয়ে মধ্যমা দেখিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘পুণে পাল্স’-এর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার বিরক্তি প্রকাশ করেছেন অনেকে। বাগ্দত্তকে খুনে অভিযুক্ত সিয়ার আচরণের তীব্র সমালোচনাও করেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। তাঁকে ‘অহঙ্কারী’ এবং ‘বড়লোক বাড়ির বখে যাওয়া মেয়ে’ তকমা দিয়েছেন তাঁরা। ভিডিয়োটি দেখার পর এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘পরম দুরাচারী। কোনও অনুশোচনা নেই! এর কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।’’ অন্য এক জন মন্তব্য করেছেন, ‘‘একেই বলে বড়লোক বাবা-মায়ের বখে যাওয়া মেয়ে। খুনে অভিযুক্ত আবার অশ্লীল ভঙ্গি করছে।’’
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন পুণের লোহাগড় দুর্গ থেকে খাদে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। প্রাথমিক ভাবে একে দুর্ঘটনা বলে মনে করেছিল পুলিশ। পরে খুনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন পরিকল্পনা করে এই হত্যা করেছেন। ধাক্কা মেরে খাদে ফেলে দেওয়া হয়েছে কেতনকে। দু’জনকেই খুন এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আপাতত তাঁরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। সূত্রের দাবি, খুনের কথা প্রথম কার মাথায় এসেছিল, তা নিয়ে জেরার মুখে পরস্পরকে দোষারোপ করছেন সিয়া এবং চেতন। শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ চেতন এবং সিয়াকে ওয়াডগাঁও আদালতে হাজির করা হবে। সেখানে পুণে গ্রামীণ পুলিশ তাঁদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবীরা তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর অনুরোধ জানাতে পারেন।