‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমায় কোমায় থাকা রাজুকে কোমা থেকে ফিরিয়ে এনেছিল বন্ধু ফারহানের কণ্ঠস্বর। সিনেমায় দেখানো সেই দৃশ্যই বাস্তব হয়ে ফিরল আট বছরের শিশুর জীবনে। ৫৫ দিন কোমায় থাকায় পর বন্ধুদের কণ্ঠস্বর শুনে জীবনের স্পন্দন ফিরল একরত্তির শরীরে। গাড়ি দুর্ঘটনায় কোমায় চলে যাওয়া শিশুটির জীবনে অলৌকিক এই ঘটনা ঘটানোর নেপথ্যে ছিলেন তার মা।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, চিনের বাসিন্দা আট বছরের এক নাবালক একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। লিউ চুক্সি নামের এই বালক হুনান প্রদেশের ইউয়েয়াং অঞ্চলে থাকত। গত বছর নভেম্বরে ঘটা দুর্ঘটনায় তাঁর মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি হয়। ফুসফুসেও মারাত্মক আঘাত লাগে। চিকিৎসকেরা তখন তাঁর পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে লিউয়ের কোমা থেকে ফেরার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবে লিউয়ের মা হাল ছাড়তে রাজি হননি।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসার জন্য তিনি তাঁর ছেলেকে একাধিক হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুসরণ করে পরিচিত শব্দ দিয়ে লিউয়ের মস্তিষ্ককে জাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। এক চিকিৎসক তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে প্রিয় সঙ্গীত বা পরিচিত কণ্ঠস্বর মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশগুলিকে সক্রিয় করতে বা জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। সেই পরামর্শ অনুযায়ী লিউয়ের মা স্কুলের প্রার্থনা সঙ্গীত এবং সকালের ব্যায়ামের সুর সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতি দিন ছেলের বিছানার পাশে সেগুলি বাজিয়ে শোনাতেন। লিউয়ের শিক্ষকও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ছোট্ট লিউয়ের সহপাঠীরা তার জন্য ছোট ছোট ভিডিয়ো রেকর্ড করে পাঠিয়েছিল। সেই অডিয়ো ক্লিপে শিশুরা অসুস্থ লিউয়ের নাম ধরে ডাকত, রসিকতা করত, তার প্রিয় গান গাইত এবং তাকে ঘুম থেকে উঠতে উৎসাহিত করত।
৪৫ দিন কোমায় থাকার পর লিউ প্রথম বার তার চোখের পাতা নাড়ার মাধ্যমে সাড়া দিতে শুরু করে। কয়েক দিন পর, শিক্ষকের কণ্ঠস্বর শুনে তার ঠোঁটে হাসি দেখা দেয়। ৫৫তম দিনে লিউ পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে পায় এবং বাম হাত নাড়তে শুরু করে। লিউয়ের মা সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘‘অবশেষে কালো মেঘের আড়ালে সূর্য দেখতে পেলাম। সত্যিই একটা অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে।”