চাকরিসূত্রে এক ইভেন্টে যাওয়ার কথা ছিল অধস্তনের। শত চেষ্টা করেও সেই জায়গায় আর পৌঁছোতে পারেননি তরুণ। ঊর্ধ্বতনকে হোয়াট্সঅ্যাপে সে কথা জানিয়ে দেন তিনি। ইভেন্টে না যেতে পারলেও তিনি যে বাইরে থেকে কাজে বসছেন সে কথা জানাতেও ভুললেন না। কিন্তু অধস্তনের মেসেজ দেখে বস্ গেলেন চটে। খাতায়-কলমে নয়, হোয়াট্সঅ্যাপেই চাকরি থেকে সরাসরি বরখাস্ত করে দিলেন তরুণকে। সেই চ্যাটের স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমের পাতায় পোস্ট (যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) করে অধস্তনের অপেশাদার আচরণের নিন্দা করলেন বস্। কিন্তু সমালোচনার পাল্টা শিকার হতে হল তাঁকে।
আরও পড়ুন:
‘নিখিল রানা’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে লিঙ্কডইনের পাতায় একটি চ্যাটের স্ক্রিনশট পোস্ট করা হয়েছে। গুরুগ্রামের একটি স্টার্টআপ সংস্থার মালিক নিখিল। তাঁর এক অধস্তনের সঙ্গে নিখিলের হোয়াটস্অ্যাপের কথোপকথনের চ্যাট নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেছেন নিখিল। নিখিলকে তাঁর অধস্তন লিখে জানিয়েছেন, শত চেষ্টা করেও তিনি অফিসের ইভেন্টে যেতে পারলেন না। কিন্তু বাইরে থেকেও কাজকর্ম করে দেবেন তিনি। নিখিল তাঁর কাছ থেকে কাজ সংক্রান্ত কিছু তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। সোমবারের মধ্যে সমস্ত তথ্য নিখিলকে জানিয়ে দেবেন বলেও কথা দিলেন অধস্তন কর্মী। কিন্তু সে কথা শুনে রেগে গেলেন নিখিল। চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সময় কিছু নিয়মকানুন পালন করতে হয়। নিখিল সে সবের ধার ধারলেন না।
হোয়াট্সঅ্যাপেই অধস্তনকে চাকরি থেকে বার করে দেন তিনি। ইভেন্টে সশরীরে হাজিরা না দেওয়ায় নিখিল লেখেন, ‘‘তোমায় আর কোনও কাজ করতে হবে না। ছেড়ে দাও। এই অফিসে আজই তোমার শেষ দিন। তোমায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হল।’’ চ্যাটের স্ক্রিনশট পোস্ট করে নিখিল লিখেছেন, ‘‘কোনও সংস্থাই এখন কর্মদক্ষতা দেখে না। যে কর্মী নিজের কাজের দায়িত্ব নিতে পারেন, সংস্থাকে তাঁর প্রতি নির্ভরশীল করাতে পারেন, সঠিক সময় এবং পরিস্থিতির জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকেন না— সংস্থা সেই ধরনের কর্মী চান।’’
আরও পড়ুন:
এই পোস্টটি দেখে ক্ষোভপ্রকাশ করে এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘বিনা নোটিসে এ ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেওয়া একদম ঠিক হয়নি। কিছুটা সময় দিন অন্তত। আপনার অধস্তন অন্য চাকরি খোঁজার সময়টুকুও পেলেন না। আসলে, দিনের ২৪টা ঘণ্টা সংস্থাকে দিয়ে দিলেও বস্ খুশি হন না। সারা দিন ‘অফিস, অফিস’ করলেই ঊর্ধ্বতন খুশি।’’ আবার এক জন লিখেছেন, ‘‘অধস্তন তাঁর বসের কথামতো সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ছুটি না নিয়ে বাইরে থেকেও তো কাজ করতে রাজি ছিলেন! আসলে, আপনি ঠিকই বলেছেন। কাজের জায়গায় পরিশ্রমের কোনও মূল্য নেই। পদোন্নতি এবং বেতনবৃদ্ধির জন্য পদলেহনের প্রয়োজন।’’