মাত্র ২৭ বছর বয়স। আর সেই বয়সেই কর্পোরেট জগতের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এক তরুণ। শহুরে জীবন ছেড়ে রাজস্থানের উদয়পুরে বাসা বেঁধেছেন। বিশেষ ব্যবসা করে মাসে লক্ষ টাকা আয়ও করছেন। ওই তরুণের কাহিনি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়েছে। আলোচনা শুরু হয়েছে তাঁকে নিয়ে।
ভারতে সাফল্যের ধারণা ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। অনেক তরুণ পেশাদার নির্দিষ্ট রুটিন মেনে দীর্ঘ সময় ধরে কাজের বদলে স্বস্তির জীবন বেছে নেওয়ার পথ খুঁজছেন। এমন জীবিকার সন্ধান করছেন, যেখানে অর্থের পাশাপাশি মানসিক শান্তিও রয়েছে। সে রকমই ২৭ বছর বয়সি এক তরুণ রেডিটে একটি পোস্ট শেয়ার করে তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছন।
আরও পড়ুন:
ওই তরুণ জানিয়েছেন, প্রায় সাত বছর কর্পোরেট জগতে একটি ‘কঠিন’ জীবন কাটানোর পর তিনি শহুরে জীবন ছেড়ে নিজের শহর উদয়পুরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে ‘হোমস্টে’র ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ছোট পরিসরে শুরু করা সেই ব্যবসা এখন বড় হয়েছে। তাঁর জীবনে একটি স্থিতিশীল আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
ওই পোস্টের ক্যাপশনে তরুণ লিখেছেন, ‘‘উদয়পুরে এক ধীরগতির জীবনে পা রাখলাম। খরচ কম, স্বাধীনতা বেশি।” ওই পোস্টে তরুণ জানিয়েছেন, তাঁর এই পরিবর্তন কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং, এটি ছিল বছরের পর বছর ধরে করা পরিকল্পনা এবং সতর্ক বাস্তবায়নের ফল। চাকরি করার সময় থেকেই নিজের ব্যবসার কথা চিন্তা করছিলেন তিনি। আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কার্যক্রম প্রসারিত করেন। আর্থিক প্রস্তুতিও এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। কারণ চাকরি ছাড়ার আগেই বেশ কিছুটা সঞ্চয় করে ফেলেছিলেন তিনি। তরুণ লিখেছেন, ‘‘অনেক দিন হল আমি মেট্রো শহরের কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে দিয়ে আরও শান্ত জীবনযাপনের জন্য নিজের শহর উদয়পুরে ফিরে এসেছি। একটি ছোট পরিবর্তন হিসাবে যে ব্যবসা শুরু করেছিলাম, তা ধীরে ধীরে আমার জীবনযাত্রায় এক সম্পূর্ণ পরিবর্তন এনে দিয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
তরুণ জানিয়েছেন, পর্যটন শহর উদয়পুরে হোমস্টের ব্যবসাই এখন তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। চাহিদার উপর নির্ভর করে আয় ওঠানামা করলেও এখন তাঁর গড় মাসিক আয় প্রায় ১ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছেন তিনি। তরুণের দাবি, যে মাসগুলিতে ব্যবসা মন্দা থাকে, সে সব মাসে আয় কমে ৪০-৫০ হাজার হয়ে যায়। কিন্তু পর্যটনের ভরা মরসুমে তা বেড়ে হয় মাসে ৩-৪ লক্ষ টাকা। সেই টাকা দিয়ে বর্তমানে তিনি অন্য সম্পত্তিতেও বিনিয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তরুণ।
তরুণের দাবি, আর্থিক দিক ছাড়াও চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করার পদক্ষেপ তাঁর জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। জীবনযাত্রার খরচ কমে যাওয়ার পাশাপাশি মানসিক শান্তি এসেছে জীবনে। তরুণের কথায়, “প্রতি দিনের তাড়াহুড়ো নেই, যানজট নেই, সকালগুলো এখন অনেক আরামের। ৯টা-৫টার কাজের তুলনায় এখন সময়টা অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে হয়।”
আরও পড়ুন:
তবে ব্যবসা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলির কথাও স্বীকার করেছেন তরুণ। নির্দিষ্ট আয়ের অভাব এবং একটি সুসংগঠিত কর্মপরিবেশ না থাকায় জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ফলে আর্থিক পরিকল্পনা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়। তিনি আরও বলেন, “আমার পরিকল্পনা নিখুঁত নয়। আয় স্থিতিশীল নয়। হাতে সবসময় কিছু টাকা জমিয়ে রাখতে হয়। কখনও কখনও সব কিছু খুব অনিশ্চিত মনে হয়।”
সমাজমাধ্যমে তরুণের কাহিনি ব্যাপক ভাবে সাড়া ফেলেছে। অনেক নেটাগরিক তরুণের জীবনকে ‘স্বপ্ন’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “সাহসী সিদ্ধান্ত। কিন্তু এটাই তো স্বপ্ন, তাই না।’’ অনেকে আবার তাঁর কাছে সঞ্চয়, খরচ এবং ব্যবসায়িক কৌশল সম্পর্কে বাস্তবসম্মত পরামর্শও চেয়েছেন।