প্রায় দশ বছর ধরে তরুণের ছায়াসঙ্গী ছিল তাঁর আদরের পোষ্য কুকুর। বাড়িতে একাই থাকতেন তরুণ। গত মাসে অসুস্থতার কারণে হঠাৎ মারা যান তিনি। কিন্তু মালিকের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি মেনে নিতে পারল না কুকুরটি। মালিক হয়তো আবার বাড়িতে ফিরে আসবেন, সেই আশায় বাড়ির বারান্দায় ঠায় বসে পাহারা দিত সে। কয়েক সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পর শোকে পাথর হয়ে নিজেই নিরুদ্দেশ হয়ে যায় পোষ্য কুকুরটি।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই ঘটনাটি সম্প্রতি চিনের সাংহাইয়ের বাওশান এলাকায় ঘটেছে। তরুণের নাম গাও। পোষ্য আহ ওয়াংয়ের সঙ্গে বাওশানে থাকতেন তিনি। অসুস্থতার কারণে গত বছর ডিসেম্বর মাসে মারা যান গাও। কিন্তু গাওয়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি ওয়াং। প্রতি দিন বারান্দায় বসে গাওয়ের বাড়ি ফেরার অপেক্ষা করত সে। গাওয়ের প্রতিবেশীরা খাবার-জল-চাদর দিয়ে যেত ওয়াংকে। কিন্তু খাবার মুখে তুলতে চাইত না ওয়াং। স্থানীয়দের দাবি, ৬ জানুয়ারি ওয়াং নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। দু’দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে।
আরও পড়ুন:
পরে সেখানকার এক বাসিন্দা পথকুকুরদের খাবার দেওয়ার সময় তাদের দলে ওয়াংকে দেখতে পান। ঘাসের উপর চুপচাপ শুয়ে থাকতে দেখা যায় ওয়াংকে। পরে সেই প্রতিবেশীই ওয়াংকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। গাওয়ের পুত্র মাঝেমধ্যেই তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ওয়াংয়ের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন তিনি। পরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এক তরুণী প্রতিবেশী। তিনি ওয়াংকে পোষ মানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তরুণীর দাবি, গাওয়ের বাড়ির কাছাকাছি থাকলে ওয়াংয়ের মন ভাল থাকবে। তার পর থেকে গাওয়ের প্রতিবেশীর বাড়িতেই রয়েছে ওয়াং।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় ‘হাচিকো’র ঘটনাকে। টোকিয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিভাগের অধ্যাপক হিদেসাবুরে উয়েনোর পোষ্য ছিল হাচিকো নামে একটি কুকুর। অধ্যাপকের ফেরার আগে প্রতি দিন শিবুয়া স্টেশনে হাজির হত হাচিকো। ১৯২৫ সালের মে পর্যন্ত এ ভাবেই মালিককে আনতে স্টেশনে অপেক্ষা করতে দেখা যেত হাচিকোকে। কিন্তু হঠাৎই অধ্যাপক মারা যান। হাচিকো কিন্তু তার প্রতি দিনের অভ্যাস বদলাতে পারেনি। মালিক যে ট্রেনে আসতেন ঠিক সেই সময়েই ওই স্টেশনের সামনে হাজির হত সে। এ ভাবে ন’বছর মালিকের জন্য ঠিক একই জায়গায় অপেক্ষা করতে করতে একদিন মৃত্যু হয় তার। ওয়াংয়ের ঘটনা আবার যেন হাচিকোর স্মৃতি উস্কে দিল।