দীর্ঘ দিন ধরে পিছু নিত দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্র। হয়রানিও করত বার বার। বিরক্ত হয়ে স্কুলই ছেড়ে দিয়েছিলেন শিক্ষিকা। তার পরেও রেহাই মিলল না। টিউশন পড়াতে যাওয়ার সময় হামলা চালাল ওই ছাত্রই। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঠোঁট কেটে ফেলল শিক্ষিকার! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরী জেলার সদর কোতোয়ালি এলাকায়। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই তরুণী শিক্ষিকা টিউশন পড়াতে যাচ্ছিলেন। মাঝরাস্তায় তাঁকে অতর্কিত আক্রমণ করে দ্বাদশ শ্রেণির অভিযুক্ত পড়ুয়া। প্রথমে শিক্ষিকার পথ আটকে হেনস্থা করে সে। এর পর কিছু ক্ষণ তর্কাতর্কির পর একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষিকার ঠোঁট কেটে পালিয়ে যায় ঘটনাস্থল থেকে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, আহত শিক্ষিকাকে প্রথমে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। পরে তাঁকে আগরার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে খবর।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণী ওই শিক্ষিকা আগে অভিযুক্তের স্কুলেই পড়াতেন। কিন্তু দিনের পর দিন, অভিযুক্তের হয়রানির শিকার হয়ে স্কুল পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। এ নিয়ে অভিযোগও জানিয়েছিলেন তিনি। এর পর ওই ছাত্রের আচরণে পরিবর্তন আসে। কিন্তু কিছু দিন পর আবার একই আচরণ শুরু করে সে। শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানিরও অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার দিন ছাত্রের আচরণে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন আক্রান্ত শিক্ষিকা। আর তার পরেই তাঁর উপর অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, শিক্ষিকার ভাইয়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ওই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তও শুরু হয়েছে। ওই ছাত্র বর্তমানে পলাতক। তাকে খুঁজে বার করতে তৎপর হয়েছে পুলিশ। পুলিশ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘‘একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে কাজ হচ্ছে।’’
আরও পড়ুন:
শিক্ষিকাকে ছাত্রের আক্রমণের ওই ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে ‘মিশন অম্বেডকর’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। অভিযুক্ত ছাত্রকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে, নারী নিরাপত্তা এবং যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও।