সকলের স্ত্রী আছে। তাঁরও চাই। তেমনটাই জানিয়ে ৩০ ফুট উঁচু জলের ট্যাঙ্কে উঠে নিজেকে শেষ করার হুমকি দিলেন ইতিমধ্যেই বিবাহিত এক যুবক। বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁ জেলায় ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, বদায়ুঁর ইসলামনগরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র লাগোয়া একটি জলের ট্যাঙ্কে উঠে পড়েন ওই যুবক। হুমকি দেন, তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়া না হলে সেখান থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন তিনি। নাটকীয় সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের দাবি তুলে জলের ট্যাঙ্কে চড়া ওই যুবকের নাম হরপ্রসাদ মৌর্য। ইসলামনগরের বাসিন্দা যুবক আগে থেকেই বিবাহিত। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎই আবার বিয়ের দাবি তুলে ইসলামনগরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র লাগোয়া ৩০ ফুট উঁচু জলের ট্যাঙ্কে উঠে পড়েন তিনি। জানিয়ে দেন, দ্বিতীয় স্ত্রী চাই তাঁর। আর তা না হলে ট্যাঙ্ক থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন তিনি। হরপ্রসাদের সেই কাণ্ডে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ভিড় জমে ওই চত্বরে। খবর পেয়ে পুলিশও পৌঁছোয়।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, জলের ট্যাঙ্কে দাঁড়িয়ে তারস্বরে চেঁচাচ্ছেন হরপ্রসাদ। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘সবার স্ত্রী আছে। আমারও চাই। আমি দশ দিন ধরে একই নোংরা পোশাক পরে আছি। কে সেগুলো ধোবে? আমার প্রথম স্ত্রী ইতিমধ্যেই আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। যদি আমাকে দ্বিতীয় স্ত্রী না এনে দেওয়া হয়, তা হলে আমি এখান থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করব।’’ প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে জলের ট্যাঙ্কে উঠে চিৎকার করতে থাকেন হরপ্রসাদ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। যুবককে কী ভাবে নামিয়ে আনা হবে, তা বুঝতে হিমশিম খায় পুলিশও। যদিও পুলিশের অনেক বোঝানোর পর জলের ট্যাঙ্ক থেকে নিরাপদে নেমে আসেন হরপ্রসাদ। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
খবর, জলের ট্যাঙ্ক থেকে নেমে আসার পর হরপ্রসাদের পরিবারের উপস্থিতিতে তাঁকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় যুবককে। হরপ্রসাদের বাবা-মা মুন্নালাল মৌর্য এবং রাম পিয়ারি পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁদের ছেলে মানসিক ভাবে অসুস্থ এবং বরেলীতে তার চিকিৎসা চলছে। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, আট বছর আগে বিয়ে হয়েছিল হরপ্রসাদের। কিন্তু বছর ছয়েক আগে তাঁকে ছেড়ে চলে যান স্ত্রী। দম্পতির এক পুত্রও রয়েছে। হরপ্রসাদের সঙ্গে থাকে সে। পুলিশ জানতে পেরেছে, হরপ্রসাদ জলন্ধরে দিনমজুরের কাজ করতেন। সম্প্রতি ফিরেছিলেন সেখান থেকে। পুলিশ হরপ্রসাদের পরিবারকে তাঁর উপর কড়া নজর রাখার এবং নিয়মিত চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছে বলে খবর।
আরও পড়ুন:
হরপ্রসাদের জলের ট্যাঙ্কে উঠে দাপিয়ে বেড়ানোর ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে রাহুল সাইনি নামের এক সাংবাদিকের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে নেটাগরিকদের অনেকে মজার মজার মন্তব্য করলেও অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।