ভারতের একটা বড় অংশের মানুষ যাতায়াতের জন্য রেলব্যবস্থাকে ভরসা করে থাকেন। তা দূরের সফর হোক বা কাছেপিঠে ঘুরতে যাওয়া কিংবা নিত্য দিনের যাতায়াত। তার অন্যতম প্রধান কারণ রেলের ভাড়া হয় সাধ্যের মধ্যে। কিন্তু অনেক সময়ই সেটুকুও ব্যয় করতে নারাজ থাকেন যাত্রীরা। সে বিষয়েই নজর রাখতে মজুত থাকেন টিকিট পরীক্ষকেরা। তবে অনেক সময় ভুল হয় তাঁদেরও। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে নেটপাড়ায়।
আরও পড়ুন:
এক্স-এর (সাবেক টুইটার) ‘অনুজ অগ্নিহোত্রী স্বতন্ত্র’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে, এক যাত্রীর কলার চেপে ধরে প্রায় হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন এক টিকিট পরীক্ষক। ওই যাত্রী বার বার প্রশ্ন করতে থাকেন যে তাঁর কলার কেন ধরা হয়েছে, কিন্তু উল্টে হম্বিতম্বি করতে থাকেন টিকিট পরীক্ষক। ওই যুবক আরও দু’জনকে দেখিয়ে আবার জিজ্ঞাসা করতে থাকেন যে তাঁরা কেউই তো পালাচ্ছিলেন না, তাহলে তাঁদের প্রতি এমন আচরণ করা হচ্ছে কেন?
টিকিট পরীক্ষককে তা সত্ত্বেও সুর নরম করতে দেখা যায় না। তিনি বলেন, “আপনার সঙ্গী পালিয়ে গিয়েছেন।” ওই যুবক তখন পাল্টা জবাব দেযন, “আমি কি তার দায়িত্ব নিয়েছি?” এর উত্তরে টিকিট পরীক্ষক বলেন, “হ্যাঁ, আপনি নিয়েছেন।” তর্কাতর্কি চরমে ওঠে। অবশেষে রেলের আরও এক কর্মীকে দেখা যায়। তিনি বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা করছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার হল, ভিডিয়োটির ক্যাপশন থেকে জানা যায় ওই যাত্রীদের কাছে টিকিট ছিল।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দায় মুখর হয়েছে নেটপাড়া। অজস্র মন্তব্যও জমা পড়েছে মন্তব্যবাক্সে। কারও কারও দাবি, ওই টিকিট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত। এক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “কিছু লোক উর্দি বা পদ পেলেই নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন। সম্মান অর্জন করতে হয়, ভয় দেখিয়ে তা পাওয়া যায় না।” আর এক ব্যক্তির মতে, এই ধরনের অযোগ্য কর্মীদের কারণেই ভারতীয় রেলের বদনাম হয়।