সোমবার দিল্লির স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন লিয়োনেল মেসি। প্রায় ৩৫ মিনিট সেখানে ছিলেন তিনি। মেসিকে দেখার জন্য গ্যালারিতে অনুগামীদের ভিড় উপচে পড়ছিল। মেসি যেন তাঁদের কাছে ‘ঈশ্বর’। মেসি মাঠে প্রবেশ করতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন দর্শক। কিন্তু গ্যালারিতে দর্শকের ভিড়ে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অনুগামীরাও।
মাঠে গোল করার পর রোনাল্ডো যে বিশেষ ভঙ্গিমায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, সেই ভঙ্গিমা করে চিৎকার করতে শুরু করেন গ্যালারিতে উপস্থিত রোনাল্ডোর অনুগামীরা। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে মেসি এবং রোনাল্ডোকে নিয়ে তর্কবিতর্ক লেগেই থাকে। স্টেডিয়ামে দর্শকাসনে অধিকাংশই ছিলেন মেসির অনুগামী। রোনাল্ডোর অনুগামীদের এই আচরণ সহ্য করতে না পেরে পাল্টা চিৎকার শুরু করেন তাঁরাও।
আরও পড়ুন:
গ্যালারিতে হইচই হচ্ছে দেখে ব্যবস্থা নেয় দিল্লি পুলিশ। ঝামেলা থামাতে স্টেডিয়াম থেকে রোনাল্ডোর অনুগামীদের বার করে দেন পুলিশকর্মীরা। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। পরে সুষ্ঠু ভাবেই পুরো অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দিল্লি পুলিশের তৎপরতা দেখে নেটাগরিকদের একাংশ মজা করে লিখেছেন, ‘‘একটুর জন্য গ্যালারিতে মেসি-রোনাল্ডো যুদ্ধ বাধল না।’’ আবার অনেকে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে তুলনাও করেছেন।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিকেল ৪.২৬ মিনিটে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দুই সতীর্থকে নিয়ে পৌঁছোন মেসি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পল। মেসি, সুয়ারেজ় এবং ডি’পলকে মঞ্চে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাগত জানান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) সভাপতি জয় শাহ এবং দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (ডিডিসিএ) সভাপতি রোহন জেটলি। মঞ্চে এসেছিলেন ভারতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়াও। তিন ফুটবলারের সঙ্গে সৌজন্য বিনিয়ম করেন তিনি।
স্টেডিয়ামে পৌঁছেই প্রদর্শনী ম্যাচ খেলা দু’দলের ফুটবলারদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন মেসি। ছবি তোলেন। গ্যালারির ফুটবলপ্রেমীদের অভিনন্দন গ্রহণ করতে করতে মাঠের চারদিকে ঘোরেন। যাওয়ার সময় বেশ কয়েকটি ফুটবল গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেন মেসি, সুয়ারেজ় এবং ডি’পল। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত-আমেরিকা ম্যাচের টিকিট এবং ভারতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি উপহার দেওয়া হয় তাঁদের।
গত শুক্রবার রাত আড়াইটে নাগাদ ব্যক্তিগত বিমানে কলকাতায় আসেন মেসি। শনিবার রাতে হায়দরাবাদ, রবিবার মুম্বই এবং সোমবার দিল্লির অনুষ্ঠান শেষ করে দিল্লি থেকে জামনগরের উদ্দেশে গিয়েছেন মেসি। জামনগরের ‘বনতারা’য় অম্বানী গোষ্ঠীর আতিথেয়তা গ্রহণ করে বার্সেলোনা ফিরে যাবেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।