পানশালায় তখন চলছে উদ্দাম নাচ-গান। নেশার ঝোঁকে অতি উৎসাহী এক শ্রোতা নিজের জামা খুলে গায়িকার হাতে ধরানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাতে আপত্তি জানান গায়িকা। পানশালার কর্মীরাও বাধা দেন।
ওই খদ্দেরকে বার করে দেওয়া হয়। এর পরেই বাইরে থেকে ছেলে জুটিয়ে পানশালায় চড়াও হন ওই যুবক। মারপিট বেধে যায় পানশালার কর্মীদের সঙ্গে। ভাঙচুর চলে। খবর পেয়ে মিটমাট করতে গিয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর। মত্ত যুবকদের হাতে প্রহৃত হন তিনি। নিগৃহীত হন পানাশালার মালিকও।
বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ঘোষপাড়া রোডের উপরে নোয়াপাড়ার একটি পানশালায়। রাতেই পানশালা সিল করে দেয় পুলিশ। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোনও পক্ষই কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি থানায়। পুলিশ মারধর, ভাঙচুর, খুনের চেষ্টা-সহ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করেছে। ধরা পড়েছেন পানশালার মালিক-সহ ১৭ জন। এ দিন সকলকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সকলকে চার দিন জেলহাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পুলিশ কমিশনার নীরজকুমার সিংহ জানান, পানশালার সিসি টিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোলমাল মেটাতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুপালচন্দ্র ঘোষ। তাঁকে রাতে ব্যারাকপুর মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। পরে সেখান থেকে কলকাতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করানো হয়েছে। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রের খবর।
ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কর্তারা জানান, পানশালার মালিক সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে খবর না দিয়ে তাঁর কর্মীদের নিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। এ দিকে, এই ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে পানশালাগুলির নিরাপত্তাহীনতা এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যের বিষয়টি ফের সামনে চলে এল। দুর্গাপুজোর আগে পানশালাগুলির উপরে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার। সব ক’টি পানশালায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রশ্ন উঠছে, পানশালায় মত্ত অবস্থায় যুবকদের মারামারির ঘটনায় পুলিশকে সঙ্গে না নিয়ে কাউন্সিলর সেখানে গিয়েছিলেন কেন? নোয়াপাড়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রার্থী মঞ্জু বসু বলেন, ‘‘কাউন্সিলর হিসেবে তিনি যেতেই পারেন। কিন্তু এ ভাবে নিজেই আক্রান্ত হবেন, ভাবা যায়নি।’’