E-Paper

বিকল লঞ্চ, দুর্যোগে দীর্ঘ অপেক্ষায় ভোটকর্মীরা

দ্বিতীয় দফার ভোটে গোলমাল না-হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছিলেন সকলে। কিন্তু বহু জায়গায় ভোটকর্মীদের স্বস্তি কেড়েছে রাতের দুর্যোগ।

প্রসেনজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৯:৫২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রাণ হাতে করে ফিরলেন ওঁরা।

ভরা কোরানখালি নদী ফুঁসছিল। তার মধ্যেই বুধবার রাতে প্রবল ঝড়বৃষ্টির মধ্যে মোচার খোলার মতো দুলছিল গোসাবার কুমিরমারির ভোটকর্মীদের বিকল হয়ে যাওয়া লঞ্চটি। চারদিকে নিকষ অন্ধকার। সম্বল শুধু মোবাইল আর লঞ্চের ব্যাটারির ছোট আলো। ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি ভয় ধরাচ্ছিল। নোঙর বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারল না লঞ্চকে। ঝড়ের দাপটে লঞ্চ নোঙর ছিঁড়ে এসে ধাক্কা খেল মরিচঝাঁপির জঙ্গলের ধারে। সে জঙ্গলে আবার বাঘের ডেরা!

রাত ৯টা থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ওই অবস্থায় লঞ্চে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পরে রক্ষা পেলেন কুমিরমারির সাতটি বুথের মোট ২৮ জন ভোটকর্মী, ১১ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, দু’জন সেক্টর অফিসার এবং জনা কয়েক রাজ্য পুলিশের কর্মী। দু’ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করে লঞ্চ সারালেন সারেং প্রদীপ মৃধা। শেষে রায়মঙ্গল পেরিয়ে গভীর রাতে গোসাবার ডিসিআরসি-তে গিয়ে পৌঁছলেন ওই ভোটকর্মীরা।

দ্বিতীয় দফার ভোটে গোলমাল না-হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছিলেন সকলে। কিন্তু বহু জায়গায় ভোটকর্মীদের স্বস্তি কেড়েছে রাতের দুর্যোগ। গোসাবার ওই ভোটকর্মীরা মনে করছেন, অল্পের জন্য তাঁরা রক্ষা পেয়েছেন। রক্ষা পাওয়া গোসাবার ১২৪ বুথের প্রথম পোলিং অফিসার শান্তনু সিন্‌হা বলেন, ‘‘বেঁচে ফিরব ভাবিনি। প্রত্যন্ত এলাকায় ভোট করাতে কমিশনকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। ফিরেও সারারাত ঘুমোতে পারিনি। অভুক্ত অবস্থায় থাকতে হয়েছে। কোন ব্যবস্থা নেয়নি কমিশন। সাধারণ ভোটকর্মীদের জীবনের দাম কমিশনের কাছে নেই।’’

কুমিরমারি পঞ্চায়েতটি গোসাবার একেবারে শেষ প্রান্তে। সাতটি বুথের ভোটকর্মীরা যখন লঞ্চে ওঠেন তখন দুর্যোগ শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তা যে এত প্রবল হবে, ভাবেননি। শান্তনুর কাছ থেকেই তাঁদের বিপদে পড়ার খবর পায় ব্লক প্রশাসন। গোসাবার জটিরামপুর খেয়াঘাটে আগে থেকেই অটো দাঁড়িয়েছিল। দ্রুত সকলকে ডিসিআরসি-তে আনা হয়।

অন্য দিকে, এদিনই ভোট শেষে সাগরদ্বীপ থেকে কাকদ্বীপে ফেরার পথে প্রবল ঝড়ে মুড়িগঙ্গা নদীতে আটকে পড়ে ভোটকর্মীদের দু’টি লঞ্চ। নদী উত্তাল হয়ে ওঠায় জেটিতে ভিড়তে একাধিকবার ব্যর্থ হয়ে মাঝনদীতেই নোঙর করে থাকতে হয়। রাত আটটা থেকে ১০টা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলে।রাত ১১টার নাগাদ কাকদ্বীপে পৌঁছে বাসে রওনা দেন তাঁরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

gosaba

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy