Advertisement
E-Paper

ক্ষতিপূরণ হয়নি ভিআইপি-র কাটা গাছের

একটি দু’টি নয়, প্রায় এক হাজার। এই দু’বছরে কেবল ভিআইপি রোড (কাজী নজরুল ইসলাম সরণি) সম্প্রসারণের জন্য কাটা হয়েছে প্রায় এক হাজার ছোট-বড় গাছ।

অরুণাক্ষ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০১৬ ০৩:২৮

একটি দু’টি নয়, প্রায় এক হাজার। এই দু’বছরে কেবল ভিআইপি রোড (কাজী নজরুল ইসলাম সরণি) সম্প্রসারণের জন্য কাটা হয়েছে প্রায় এক হাজার ছোট-বড় গাছ।

রাস্তা সম্প্রসারণের মতো উন্নয়নমূলক কাজের জন্য গাছ কাটা নিয়ম বিরুদ্ধ নয়। কিন্তু নিয়মেই রয়েছে, গাছ কাটার পরে প্রতিটি গাছ পিছু পাঁচটি করে নতুন গাছ লাগাতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভিআইপি রোডে পাঁচ হাজার নতুন গাছ লাগানোর কথা। কিন্তু পাঁচ হাজার তো দূর একটি গাছও রোপণ করা হয়নি। সে জন্য রাজ্য পূর্ত দফতরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলেছে বন দফতর।

উত্তর ২৪ পরগনার বিভাগীয় বনাধিকারিক নিতাই সাহা বলেন, ‘‘ভিআইপি রোড সম্প্রসারণের কাজের জন্য গাছগুলি কাটার অনুমতি নেওয়া হলেও পরবর্তীতে নতুন গাছ লাগানো হয়নি। সে জন্য আমরা পূর্ত দফতরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চলেছি।’’ ব্যবস্থা বলতে, উচ্চ আদালত বা পরিবেশ আদালতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারে বন দফতর। এর পরে গাছ কাটার শাস্তি হিসেবে জেল-জরিমানা দুইয়েরই বিধান রয়েছে। তবে তার আগে পূর্ত দফতরকে প্রথমে গাছ রোপণ করতে তাগাদা দেবে বন দফতর।

Advertisement

বিধাননগর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভিআইপি রোড সম্প্রসারণ ও উড়ালপুলের কাজ শুরু হয় কয়েক বছর আগে। সেই কাজ শুরু করার জন্য ২০১৪-১৫ সালে মোট ৪৬২টি গাছ কাটতে বন দফতরের কাছে আবেদন জানায় রাজ্য পূর্ত দফতর। বন দফতর সেই অনুমতি দিলেও শর্ত থাকে, কাজ শেষ হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই এলাকাতেই পাঁচগুণ গাছ লাগাতে হবে।

বন দফতরের বক্তব্য কাজ শেষের পরে সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনও একটিও নতুন গাছ লাগায়ানি পূর্ত দফতর। সেই ‘অপরাধে’ই পূর্ত দফতরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আইনত ব্যবস্থা নিতে চলেছে বন দফতর।

আরও জানা গিয়েছে প্রথম দফায় ওই গাছ কাটার পরে ২০১৫-১৬ সালে ভিআইপি রোডের দু’পাশের আরও ৫১৩টি গাছ কেটে ফেলে পূর্ত দফতর। এ ক্ষেত্রেও গাছ কাটার অনুমতি নেওয়া হলেও পরবর্তীতে নতুন গাছ লাগানো হয়নি। তবে সেই গাছ লাগানোর সময়সীমা পেরিয়ে যায়নি। বন দফতরের বক্তব্য, সেই কারণে এখন প্রথম দফার গাছ কাটার ঘটনাতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভিআইপি রোডের দায়িত্বে থাকা রাজ্য পূর্ত দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সৌম্য বসু অবশ্য বলেন, ‘‘এখন প্রচণ্ড দাবদাহ চলছে। বর্ষা নামলেই গাছ রোপণ করা হবে।’’ এত দিন কেন নতুন গাছ লাগানো হয়নি? সৌম্যবাবু বলেন, ‘‘রাস্তার কিছু কাজ এখনও চলছে। শেষ হলেই গাছ রোপণ শুরু হবে।’’

বন দফতরের অবশ্য পাল্টা দাবি, এ সব নিছকই অজুহাত। গাছ কেন পোঁতা হয়নি সে ব্যাপারে জানতে চাইলে কোনও উত্তর দেয়নি পূর্ত দফতর। নিতাইবাবুর সংযোজন, ‘‘উন্নয়ন মানে শুধু কল-কারখানা, ইমারত বা রাস্তা তৈরিই নয়, সেগুলি টিকিয়ে রাখাও প্রয়োজন। উন্নয়নের কাজে গাছ কাটা হলে তার পরিবর্তে গাছ লাগানোও দরকার। এই যে অসহ্য গরম পড়ছে, উষ্ণায়ণ হচ্ছে, এ সব প্রতিরোধে গাছের ভুমিকা অসামান্য।’’

শুধু তাই নয়, ‘গাছ আরও অনেক কিছুই রক্ষা করে’,— বলছেন বটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অধিকর্তা দুলাল পাল। তিনি আরও বলেন, ‘‘এগুলি বহু বছরের পুরনো বড়-বড় গাছ। এমন এক একটি মধ্যবয়সী গাছ নষ্ট হলে সাড়ে সাতশো বন্যপ্রাণের আশ্রয় নষ্ট হয়। তার মধ্যে পাখি, পরজীবী, ব্যাকটেরিয়া ছাড়া মানুষও রয়েছে। এতে যে পরিবেশের কী ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে তার কিছু আভাস মাত্র মিলছে এখন। ভবিষ্যতে যা ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।’’

সেই ভয়াবহতার আভাসের কথা বলছেন এলাকার মানুষও। ভিআইপি রোড সংলগ্ন একটি আবাসনের বাসিন্দারা জানান, আগে রোদে রাস্তার পাশে গাছের ছায়ায় দাঁড়ানো যেত। এখন বাস বা ট্যাক্সি ধরার জন্য চড়া রোদ্দুরে ঘেমে-নেয়ে অপেক্ষা করতে হয়। গোটা এলাকাটাই সবুজের অভাবে খাঁ-খাঁ করছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy