উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় উদ্ধার হল তৃণমূলের বুথ সভাপতির রক্তাক্ত দেহ। মৃত মশিউর কাজির (৩৮) বাড়ি দেগঙ্গার চাপাতলা পঞ্চায়েতের গাংনিয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার সকালে হাড়োয়া থানা এলাকার ঝুজুরগাছা গ্রামে রাস্তার পাশে তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মশিউরের দুই হাতের কব্জি কাটা। দেহের একাধিক জায়গায় ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর ফলে ওই ক্ষত তৈরি হয়েছে। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে হাড়োয়ার ওই এলাকার বাসিন্দারাই প্রথমে মশিউরের দেহটি দেখতে পান। রাস্তার ধারে পড়ে ছিল দেহটি। সকালে সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময়েই দেহটি দেখতে পান তাঁরা। পাতলা একটি কম্বলে জড়িয়ে ফেলে রাখা হয়েছিল দেহ। বিষয়টি নজরে আসার পরেই হাড়োয়া থানায় খবর দেন এলাকাবাসীরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রথমে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় দেহটি। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেটি বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, খুন করা হয়ে থাকতে পারে মশিউরকে। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে হাড়োয়া থানা। মশিউরের বাড়ি গাংনিয়ার ১৭৮ নম্বর বুথ এলাকায়। সেখানে তৃণমূলের বুথ সভাপতি তিনি। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হল, তা স্পষ্ট নয় পরিবারের সদস্যদের কাছে। এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ থাকতে পারে বলেও দাবি করছেন মৃতের দাদা মোতালেব কাজি। তাঁর বক্তব্য, মশিউরের দু’টি হাতের কব্জি কেটে নেওয়া হয়েছে । গায়ে একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে। দেহ যাতে শনাক্ত করা না যায়, সেই জন্য মুখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি মৃতের দাদার। তাঁর সন্দেহ, মৃত্যুর পরে দেহটি কম্বলে মুড়িয়ে হাড়োয়া থানা এলাকার ঝুজুরগাছায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মৃতের পরিবারের দাবি, বুধবার রাত ৯টা নাগাদ একটি ফোন এসেছিল মশিউরের। ওই ফোন পাওয়ার পরই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। সেই থেকে মশিউরের কোনও খোঁজ পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যেরা। তাঁর মোবাইলও ‘সুইচ্ড অফ’ আসছিল বলে দাবি পরিবারের। সারারাত খোঁজাখুঁজির পরে বৃহস্পতিবার সকালে হাড়োয়া থানা এলাকায় দেহ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার।