কেটে গিয়েছে প্রায় ছ’বছর। কিন্তু এখনও আয়লা নদীবাঁধ প্রকল্পের বাঁধ তৈরি হল না। ফলে যখন তখন গ্রামে জল ঢুকে পড়ছে। ভেসে যাচ্ছে গ্রাম। দিনের পর দিন জলের সঙ্গে যুদ্ধ করে মানুষ বেঁচে রয়েছে। প্রশাসনের তরফে খালি প্রতিশ্রুতি মিলছে। কিন্তু কাজ তেমনভাবে এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
২০০৯ সালে আয়লায় পর নদী বাঁধ প্রকল্পে সুন্দরবনের প্রায় ৭৭৮ কিলোমিটার বাঁধ তৈরির জন্য ৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছিল। নদীবাঁধ নির্মাণের জন্য সে সময় কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম পর্যায়ে রাজ্য সরকারকে ১০০ কোটি টাকা দিয়েছিল। সেই টাকা দিয়ে কিছু কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর সেই কাজ আর সে ভাবে এগোয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রাক্তন সেচমন্ত্রী সুভাষ নস্কর বলেন, ‘‘সুন্দরবনে আজও আয়লা প্রকল্পে নদী বাঁধ তৈরি হল না। আমাদের সময় যে টাকা কেন্দ্র থেকে পেয়েছিলাম তা দুই ২৪ পরগনাতে জমি অধিগ্রহণের জন্য দেওয়া হয়েছিল। তারপর সরকার পরিবর্তন হয়ে যায়। সেচ দফতর থেকে আমাদের সময়ে জীবনতলার কুঁড়িয়াভাঙায় একটি পাম্প হাউস তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছিল। সেই কাজ আজও শেষ হয়নি। এ বার কাজগুলি দ্রুত শেষ করা উচিত।’’ যদিও বর্তমান সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, সুন্দরবন এলাকায় ইতিমধ্যেই আয়লা প্রকল্পে ৫২ কিলোমিটার নদীবাঁধের কাজ হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে গোসাবা ব্লকে প্রায় ৩ কিলোমিটারের কাজ হয়েছে। তিনি বলেন,‘‘গোসাবা ব্লকের কিছু জায়গায় জমি জট ছিল। সেগুলি মিটে গিয়েছে। এই ব্লকে নতুন করে ১৩ কিলোমিটার নদীবাঁধ তৈরি করা হবে। তার ওয়ার্ক-অর্ডারও হয়ে গিয়েছে। দু’এক দিনের ভিতরেই কাজ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা।’’
২০০৯ সালের ২৫ মে আয়লার ঝড়ে দুই ২৪ পরগনায় সব মিলিয়ে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। তৎকালীন বাম সরকার আশ্বাস দিয়েছিল সুন্দরবনে কংক্রিটের নদীবাঁধ তৈরি করা হবে। এরপর পরিবর্তনের হাত ধরে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু নদীবাঁধের কাজ তেমন ভাবে হয়নি বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ।
সে সময় ক্যানিং, গোসাবা, রায়দিঘি-সহ বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী জনসভায় গিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, সুন্দরবনে কংক্রিটের নদীবাঁধ তৈরি করা হবে। আয়লা নদী বাঁধ প্রকল্পের জন্য যাঁরা জমি দেবেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার পিছু একজনকে চাকরি দেওয়া হবে। মুখের কথাই শেষ। কাজ হচ্ছে ধীর গতিতে। এ দিকে গোসাবা, বাসন্তী ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় নদীবাঁধের অবস্থা খুবই খারাপ। যখন তখন বাঁধ ভেঙে গ্রামে জল ঢুকে পড়ছে। ভেসে যায় বাড়ি ঘর। চাষের জমি জলের তলায় চলে যায়। তখন সেচ দফতর থেকে বাঁধ মেরামত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।
কিন্তু এ ভাবে আর কত দিন চলবে? দ্রুত নদীবাঁধ না সারানো হলে মানুষের সমস্যা আরও বাড়বে।
সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসন্তী ব্লকের চুনাখালির আয়লা নদীবাঁধ প্রকল্পে ৭৬২ মিটার নদীবাঁধ তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া হাড়ভাঙি, সরানেখালি, হোগলডুরি, সোনাখালিতে ওই প্রকল্পে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার নদীবাঁধ তৈরির কাজ শুরু হবে।
গোসাবা ব্লকের আমলামেথিতে ৮০২ মিটার নদীবাঁধ ওই প্রকল্পে তৈরি হলেও উত্তরডাঙা, বাগবাগান, লাক্সবাগান, লাহিড়িপুর এলাকায় এখনও বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা যায়নি।
বালি ১-এ ১৫৪০ মিটার নদীবাঁধের কাজ চলছে।
এ বারের বাজেটে কেন্দ্র সরকার সেচ দফতরের বরাদ্দ করা টাকা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, এরপরে সুন্দরবনের সেচ দফতরের আওতায় নদীবাঁধের কতটা উন্নতি হয়।