এক যুবককে মারধর করে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে খুনের অভিযোগে তাঁর দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মৃতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে দমদম রেল পুলিশ ওই দু’জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সুমিত রাও এবং সুনীল প্রসাদ। প্রথম জন গাড়ির খালাসি, দ্বিতীয় জন গাড়ির চালক। শনিবার রাতের ওই ঘটনায় রবিবার ওই দু’জনকে গ্রেফতার করেন রেল পুলিশের তদন্তকারীরা। ধৃতদের সোমবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ধৃতেরা ওই দিন ঘটনার সময়ে চলন্ত ট্রেনে ছিল বলে দাবি রেল পুলিশের। যদিও কী কারণে এই ঘটনা ঘটে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি। তাই ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে খুনের কারণ জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম যুবরাজ সাউ (৩৫)। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের সদরবাজারে। যুবরাজের বাবার একটি দোকান রয়েছে। সেখানেই কাজ করতেন তিনি। পুলিশ জানায়, শনিবার গভীর রাতে দমদম জিআরপি থানার পুলিশ রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানতে পারে, ব্যারাকপুর এবং টিটাগড়ের মাঝে রেললাইনের ধারে এক যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। খবর পেয়ে রেল পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে ব্যারাকপুরের একটি হাসপাতালে এবং পরে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। ওই যুবকই ছিলেন যুবরাজ।
পরের দিন, অর্থাৎ রবিবার যুবরাজের বাবার তরফে তাঁর সাত বন্ধুর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে যুবরাজের বাবা জানান, ঘটনার আগে তাঁর ছেলেকে ফোন করে ডেকেছিল ওই বন্ধুরা। এর পরে চলন্ত ট্রেনে মারধর করে যুবরাজকে রেললাইনে ফেলে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন ফোন করে যুবরাজকে তাঁর দুই বন্ধু ব্যারাকপুর স্টেশনে ডেকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তারা ডাউন শান্তিপুর লোকালে ওঠে। অভিযোগ, আগে থেকেই সেখানে ছিল চার জন। চলন্ত ট্রেনে পুরনো কোনও বিবাদের জেরে যুবরাজকে মারধর করতে শুরু করে অভিযুক্তেরা। পরে তাঁকে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এক তদন্তকারী জানান, ধৃতেরা মারধরের কথা স্বীকার করেছে। মৃতদেহের ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মারধরের প্রমাণও মিলেছে। তবে ঠিক কারণে ওই ঘটনা, তাএখনও জানা যায়নি। তবে পুরনো কোনও বিবাদের জেরেই ওই ঘটনা বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)