E-Paper

দু’সপ্তাহে হরমুজ় দিয়ে তেল-গ্যাসের ১৬টি জাহাজ আনার পরিকল্পনা কেন্দ্রের, তবু থাকছে দুশ্চিন্তা

এই প্রেক্ষিতে এখনই যে তেল-গ্যাসের জোগান আগের মতো স্বাভাবিক হবে বা তার দাম বিশ্ব বাজারে নামবে, এমনটা আশা করছে না কেন্দ্র। কারণ, পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে পশ্চিম এশিয়ায় বহু তেল উৎপাদন পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৩৩

— প্রতীকী চিত্র।

তেল-গ্যাসের দাম নিয়ে এখনও চিন্তা থাকছে। তা সত্ত্বেও আমেরিকা-ইরানের দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি স্বস্তির খবর বলে মনে করছে ভারত। কারণ এই দু’সপ্তাহ হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল চালু থাকবে বলে দুই দেশই জানিয়েছে। ফলে সেখানে আটকে থাকা তেল, গ্যাস,রাসায়নিক নিয়ে অন্তত ১৬টি ভারতীয় জাহাজকে বার করে আনা যাবে, ধারণা মোদী সরকারের। যে সব ভারতমুখী বিদেশি জাহাজ তেল, গ্যাস নিয়ে থমকে গিয়েছে, সেগুলিও বেরোতে পারবে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, হরমুজ়ে আটকে থাকা জাহাজ সমস্যার ছোট্ট অংশ। বড় সমস্যা হল, আবার ভারত থেকে পশ্চিম এশিয়ায় তেল-গ্যাস ভরে আনতে জাহাজ পাঠানো। দেশকে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে বুধবার বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম অনেকটা কমেছে। দুপুরে ব্যারেল প্রতি ব্রেন্ট ক্রুড ৯০ ডলারে নেমেছিল। যেখানে মার্চে দাম বাড়ে প্রায় দেড় গুণ। তবে তেলের দাম যে যুদ্ধের আগের জায়গায় পৌঁছবে, তার নিশ্চয়তা নেই।

এই প্রেক্ষিতে এখনই যে তেল-গ্যাসের জোগান আগের মতো স্বাভাবিক হবে বা তার দাম বিশ্ব বাজারে নামবে, এমনটা আশা করছে না কেন্দ্র। কারণ, পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে পশ্চিম এশিয়ায় বহু তেল উৎপাদন পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় শুধু জ্বালানিনয়, ভারতের ওষুধ থেকে সার, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ থেকে কৃষি ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার জন্য আজ কেন্দ্রকে এই সব ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রয়োজনের ৭০% গ্যাস জোগানের নির্দেশ জারি করতে হয়। কেন্দ্রীয় ফার্মাসিউটিক্যালস দফতরের সচিব মনোজ জোশীর দাবি, ওষুধ শিল্পে কাঁচামালের সমস্যা হয়েছে। কারণ প্রথমে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোয় জোর দেওয়া হয়। এখন প্রপিলিন, অন্যান্য রাসায়নিকের জোগান বেড়েছে।

আমেরিকা, ইরান ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এ দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল। সরকারের শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য, সেখানে যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক পর্যালোচনা হয়। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘোষণায় স্বস্তিতে সরকার। কেন্দ্রের এক শীর্ষ ব্যক্তির মতে, ‘‘যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হতে পারে। কারণ দু’পক্ষই এক সুরে বিবৃতি দিয়েছে। ইরান হরমুজ়ে জাহাজ চলাচলের কথা বলেছে। সমস্যা হল, তেল-গ্যাসের বিশ্ব বাজারখুব শীঘ্র স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না।’’ তাই বৈঠকের পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলায় যে মন্ত্রিগোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল, তার বৈঠক বসেছে। রাজনাথ জানান, এলপিজি, পেট্রল, ডিজ়েল, চাষিদের জন্য সার ও জরুরি পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তেল মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, এখনই জ্বালানি বাজার পুরো বিপদ কেটেছে বলে মনে করছে না। তার প্রমাণ হল, যুদ্ধবিরতির পরে অশোধিত তেলের দাম কমলেও, যুদ্ধের আগের থেকে ৩০% বেশি। একটি অন্যতম কারণ, আমেরিকা ও ইরান আগেও একাধিক বার এক কথা বলে পরে অন্য কাজ করেছে। তাই শান্তি পাকাপাকি ফিরবে কি না, তা দু’পক্ষের দর কষাকষির উপরে নির্ভর করছে। তেল মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘বহু তেল পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’’

এই পরিস্থিতিতে হরমুজ়ে আটকে থাকা জাহাজগুলিকে বার করে আনায় প্রাধান্য দেবে কেন্দ্র। কিন্তু কবে ফের জাহাজ পশ্চিম এশিয়ায় তেল-গ্যাস ভরে আনতে যাবে, তার সদুত্তর জাহাজমন্ত্রক দিতে পারছে না। নিশ্চিত নয় সেখানে পণ্য রফতানিও। কারণ জাহাজসংস্থাগুলি এখনই সেই ঝুঁকি নিতে নারাজ। ফলে হাল থিতু হওয়ার অপেক্ষাকরতে হবে, মত সরকারি কর্তাদের।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

LPG Crisis Crude Oil Central Government Strait of Hormuz

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy