ছেলেকে ‘ভাল’ স্কুলে ভর্তি করার জন্য নকল ঠিকানা ব্যবহার করেছেন দুই অভিভাবক। মঙ্গলবার এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে। অভিযোগ, বারাসত গান্ধী মেমরিয়াল স্কুলে ভর্তি করা হয় দুই ছাত্রকে। কিন্তু তিন সদস্যের কমিটির নজরে পড়ে দুই ছাত্রের ঠিকানা ভুল দেওয়া হয়েছে। এবং সেটা তাদের অভিভাবক ইচ্ছাকৃত ভাবে করেছেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুল সূত্রে খবর, ওই দুই পড়ুয়ার যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনওদিনই থাকেনি তারা। ওই স্কুলের সুনাম রয়েছে এলাকায়। তাই ভুয়ো ঠিকানা দিয়ে দুই ছাত্রকে ভর্তি করেন অভিভাবকরা বলে খবর। যদিও এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত গান্ধী মেমরিয়ার স্কুলের প্রাথমিকে কয়েক বছর আগে বামনগাছির বাসিন্দা নব পল্লি ঠিকানা দিয়ে ছেলেকে ভর্তি করান এক অভিভাবক। অন্য দিকে নীলগঞ্জের এক বাসিন্দা বারাসত বনমালী পুর ঠিকানা দিয়ে তাঁর সন্তানকে ওই একই স্কুলে ভর্তি করেন।
সম্প্রতি চতুর্থ শ্রেণিতে উর্ত্তীর্ণ হওয়ার পর হাই স্কুলে ভর্তির জন্য আবেদন করে দুই ছাত্র। সেখানেই হয় পর্দাফাঁস। স্কুল কমিটি ‘স্ক্রুটিনি’ করে জানতে দুই ছাত্রের বাড়ি আসলে অনেকটা দূরে। তারা ভুল ঠিকানা দিয়েছেন। বিষয়টি জেলার স্কুল শিক্ষক পরিদর্শক নজরে আনা হয়েছে। তাঁর সিদ্ধান্তের ওপরই দু’জনকে ভর্তি নেওয়া হবে কি না নির্ভর করছে।
কিন্তু ভুল ঠিকানা ব্যবহার করে কী ভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এত দিন পড়াশোনা করল দুই খুদে তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দীপিকা বালা বিশ্বাস জানান ১২০ জন পড়ুয়াকে ভর্তি নেওয়া হত। তার জন্য ৬০ থেকে ৭০ জনের নাম লটারির মাধ্যমে ওঠে। গুরুত্ব পায় কারা স্কুলের কাছাকাছি থাকে। এবং বাকিদের স্থানীয় কাউন্সিলরের দেওয়া তালিকা থেকে ভর্তি নিতে হয়। এ দিকে এই ঘটনায় কাউন্সিলর আবার দায় চাপিয়েছেন প্রধান শিক্ষিকার উপরেই।