মদের ভাঙা বোতল দিয়ে বুকে কোপ মেরে এক যুবককে খুন করে পালাল তাঁরই কয়েকজন ‘বন্ধু’। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে বসিরহাটের শ্রীরামপুর দক্ষিণপাড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম দিলীপ বৈদ্য (৩৫)। এই ঘটনায় তাঁর স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দিলীপের ভাই রাজকুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তেরা পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় ইঞ্জিন ভ্যানচালক দিলীপের বাড়িতে কয়েকজন বন্ধুর যাতায়াত ছিল। বাড়িতেই বসত মদের আসর। কিছু দিন যাবত দিলীপের সঙ্গে এক বন্ধুর সঙ্গে বিবাদ চলছিল। এলাকাবাসীরা জানালেন, সম্প্রতি দিলীপের স্ত্রীর সঙ্গে ওই যুবকের বিবাহ বর্হিভুত সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল। যা নিয়ে বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি হতো।
দিলীপের সঙ্গে ঝগড়া করে স্ত্রী বাপের বাড়িতেও চলে যান। সেখানেও দিলীপের বন্ধুটি গিয়েছিল বলে অভিযোগ। এ দিনই দিলীপ তাঁর স্ত্রীকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে এনেছিলেন। দিলীপের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ফোন আসায় ‘একটু আসছি’ বলে স্বামী বাড়ি থেকে বেরোন। তারপর আর ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও সন্ধান মেলেনি। স্ত্রীর কথায়, ‘‘মঙ্গলবার ভোরে গ্রামের একজন আমার স্বামীর দেহ মাঠের পাশে বিদ্যুতের খুঁটির পাশে পড়ে থাকতে দেখেন।’’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, রক্তাক্ত অবস্থায় দিলীপের দেহ মেলে। পাশেই পড়ে রয়েছে কয়েকটি মদের বোতল। সেই বোতল ভেঙেই দুষ্কৃতীরা দিলীপের মুখে-মাথায় মেরেছে বলে পুলিশের অনুমান। ভাঙা বোতল দিয়ে এমন ভাবে মুখ ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ চিনতে না পারে।
প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, পরিকল্পনা করেই দুষ্কৃতীরা দিলীপকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে বড় রাস্তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটির সামনে বসে প্রথমে তাঁকে মদ খাওয়ানো হয়। তারপর মদের বোতল ভেঙে তাঁকে কোপানো হয়েছে। মঙ্গলবার এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, চারিদিকে চাপ চাপ রক্ত পড়ে রয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) গৌরবলাল, মহকুমা পুলিশ অফিসার শ্যামল সামন্ত এবং আইসি তপন মিশ্র মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। দেহ ময়না-তদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।