রিকশা করে যাচ্ছিলেন দু’জন। হঠাৎ রিকশার চাকা গাড্ডায় পড়ল। তা থেকে মাঝবয়সী এক মহিলা উল্টে পড়লেন রাস্তায়। হাত পা কাটল। তাঁর মাথায়ও চোট লাগল। রাস্তা বেহাল হওয়ায় এই জায়গায় প্রায়শই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানালেন রিকশা চালক।
দেগঙ্গা বাজার থেকে হাড়োয়া যাওয়ার প্রায় দশ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার হয় না দীর্ঘ দিন। রাস্তা সারাইয়ের জন্য বহু বার অবরোধ করেছেন গ্রামবাসীরা। প্রশাসনের তরফে মিলেছে শুধু প্রতিশ্রুতি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কয়েক মাস আগে ভাসলিয়া স্টেশন থেকে গোঁসাইপুর বাজার পর্যন্ত সারাইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু তা এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতে রাস্তার কিছুটা ঠিক হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু বাকি রাস্তার অবস্থা এখন এতটাই খারাপ যে মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে চলতে ভয় পান। রাস্তার ধার ভাঙা। পিচ উঠে গিয়েছে। পাথর বেরিয়ে গর্ত হয়ে গিয়েছে। রাস্তার এই অবস্থার জন্য সন্ধ্যার পর থেকে মোটরভ্যান চলে না। দেগঙ্গা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের আবদুল রউব বলেন, ‘‘দুর্ঘটনা এড়াতে দেগঙ্গা ১ এবং ২ পঞ্চায়েতের তরফে রাস্তার গর্ত বুজিয়েছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির পর থেকে রাস্তার অবস্থা খারাপ। জেলার নেতৃত্বকে জানিয়েছি। তবে কাজ ফের কবে শুরু হবে তা জানা নেই।’’ এই পথ দিয়ে সহজে হাড়োয়া যাওয়া যায়।
একই রকম অবস্থা বেড়াচাঁপা-বাগজোলা রাস্তার। বেড়াচাঁপা থেকে মছলন্দপুর ও হাবরা যাওয়ার একমাত্র পথ হল বেড়াচাঁপা-বাগজোলা রোড। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরেই তা খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। দেগঙ্গার চৌরাশি পঞ্চায়েতের সামনে জীবনপুর থেকে কলসুর পঞ্চায়েতের সামনে দিয়ে বাগজোলা যাওয়ার ১২ কিলোমিটার রাস্তা বেহাল। ২০০০ সালের পর আর কোনও রকম সারানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এ রকম খারাপ রাস্তা দিয়ে গাড়ির চালকেরাও ভয়ে ভয়ে গাড়ি চালান। প্রায়দিন এই রাস্তা দিয়ে যেতে গিয়ে গাড়ি খারাপ হয়ে যায়। সমস্যায় পড়ে স্কুল প়ড়ুয়া ও অফিস যাত্রীরাও। রাস্তা খারাপের জন্য সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছনো যায় না। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক চৈতন্য পাল বলেন, ‘‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই এলাকায় আসি। যদি এখানকার স্কুলে চাকরি না করতাম তা হলে এই রাস্তা দিয়ে কখনও আসতাম না।’’ কলসুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে থেকে শেখের মোড়ের আগে সর্দারপাড়া পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার রাস্তা সারাই হয়েছিল। বাকি ৮-৯ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা শোচনীয়।
বেশ কয়েক বছর আগে আমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সুন্দেপুকুর মোড় থেকে দেগঙ্গা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তা প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনায় তৈরি করা হয়েছিল। এই রাস্তার মধ্যে পড়ে দু’টি হাইস্কুল ও ১০টি প্রাথমিক স্কুল। শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ছাড়া এই এলাকা কৃষি প্রধান হওয়ায় গ্রামের কৃষকেরাও ফসল হাটে নিয়ে যান এই রাস্তা দিয়ে। স্থানীয় স্কুল পড়ুয়া সাহু আলমগীর, রবিউল মণ্ডল বলে, ‘‘খানাখন্দে রাস্তা ভরা। রাতে ও দিনে সাইকেল নিয়ে যেতে গিয়ে এই ভাঙা রাস্তায় প্রায়শই ঘটে দুর্ঘটনা।’’ রাস্তায় এমনই কাদা হয় যে গাড়ি রাস্তার ধারে বাড়ি হওয়ায় গাড়ি গেলেই বাড়িতে কাদা ছিটকে আসে বলে জানান এলাকার বাসিন্দা হাপিজা খাতুন, মামনি বিবিরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে রাস্তা সংস্কার করতে হবে। না হলে এই রাস্তার জন্য বাড়িতেও ঠিকমতো থাকা যাচ্ছে না।
দেগঙ্গার যুগ্ম বিডিও কৌশিক প্রামাণিক বলেন, “তিনটি রাস্তা জেলা পরিষদের অধীনে। দেগঙ্গা বাজার থেকে হাড়োয়া রাস্তা সারানোর দাবি তুলে আমাদের দফতরে আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।’’ এই প্রসঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মধ্যক্ষ নারায়ণ গোস্বামী বলেন, ‘‘রাস্তা মেরামতের জন্য কেন্দ্র থেকে কোনও আর্থিক সাহায্য মেলেনি। তবে খুব শীঘ্র দেগঙ্গা বাজার থেকে পণ্ডিতপোল হাড়োয়া যাওয়ার রাস্তা সারাই করা হবে। বাকি রাস্তা কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিলে সারানো হবে।’’